প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির চাকা ঘোরে, আর সেই চাকার টানেই কি এবার ইতিহাসের চাকাও ঘুরতে চলেছে বাংলায়? যে সিঙ্গুরের মাটি থেকে একদা টাটা গোষ্ঠীকে বিদায় নিতে হয়েছিল, আজ সেই টাটাদেরই সসম্মানে বাংলায় ফিরিয়ে আনার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক মেগা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক ও নীতিগত বার্তা দিলেন তিনি। বিগত বছরগুলোতে বাংলায় শিল্পের নামে ঢক্কানিনাদ কম হয়নি। গ্লোবাল বিজনেস সামিট থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগের খতিয়ান— খাতা-কলমে সবই থেকেছে। কিন্তু বাংলার লাখ লাখ যুবকের ভাগ্যে কী জুটেছে? পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া! শুভেন্দু অধিকারী আজ ঠিক এই ক্ষোভটাকেই উস্কে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, স্রেফ ফটো সেশন আর উৎসবের রাজনীতি করে শিল্প আসে না। টাটার মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীকে বাংলায় ফিরিয়ে এনে তবেই ঘরে ঘরে প্রকৃত কর্মসংস্থান করা সম্ভব।
বাম আমলের জোরপূর্বক জমি কেড়ে নেওয়ার মাশুল গুনেছিল বাংলা। পরবর্তী অধ্যায়েও সেই ক্ষত পুরোপুরি সারেনি। তবে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সময় বদলেছে। উগ্র রাজনীতির দিন শেষ। মানুষ এখন নিজেরাই বোঝেন শিল্প ছাড়া ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই কোনো রকম গায়ের জোর বা গুলি না চালিয়ে, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি দিতে এগিয়ে আসছেন। বাংলায় শিল্প গড়তে জমি আর কোনো দেওয়াল তুলতে পারবে না।
দিল্লির রেল মন্ত্রকের উন্নয়ন মিশনের সাথে বাংলার সমন্বয় এবং কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রয়াসে পশ্চিমবঙ্গকে অর্থনৈতিকভাবে দাঁড় করানোর এক নতুন ব্লু-প্রিন্ট আজ তুলে ধরলেন তিনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য একদিকে, কিন্তু বাংলার যুবকদের রুটি-রুজির প্রশ্নে কেন্দ্রীয় স্তরের এই যৌথ উদ্যোগ যে কতটা জরুরি, সেটাই আজ বিশ্ববাংলার মঞ্চ থেকে স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষভাগে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গেল চরম হুঁশিয়ারি। ব্যাংক জালিয়াতি, চিটফান্ড কেলেঙ্কারি কিংবা জমি জালিয়াতির সাথে যুক্ত কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বা কোনো সিন্ডিকেট চক্রকে এই নতুন শিল্প-মানচিত্রে বরদাস্ত করা হবে না। যারা শিল্পের নাম করে সরকারি বা কৃষকদের জমি আটকে রেখে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা ফাঁদছেন, তাদের সম্পত্তিও এবার কড়া নজরদারির আওতায় আসবে।
রতন টাটা একদা যে বাংলাকে চোখের জলে বিদায় জানিয়েছিলেন, আজ সেই বাংলাতেই তাঁর উত্তরসূরিদের সগৌরবে ফেরানোর ডাক দিচ্ছেন শুভেন্দু। কোনো উগ্রপন্থা বা তোলাবাজদের চোখরাঙানি ছাড়াই যে বাংলায় সুস্থ পরিবেশের শিল্প আনা সম্ভব— আজ নিউটাউনের মঞ্চ থেকে সেই বিকল্প পথেরই সন্ধান দিলেন তিনি। যুবসমাজের হকের চাকরি আর কতদিন পরিযায়ী হয়ে থাকবে, সেই তীক্ষ্ণ প্রশ্নটাই আজ আরও একবার উস্কে দিয়ে গেল এই মেগা অনুষ্ঠান।