প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সল্টলেকের বনবিতান (সেন্ট্রাল পার্ক) থেকে রাজ্যের বিগত সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ‘অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ওপেনিং মঞ্চ থেকে তাঁর সাফ কথা, বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে শুধু যথেচ্ছভাবে গাছ কেটে জঙ্গল সাফ করা হয়েছে। বাংলাকে কার্যত কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বন দপ্তরকে পুরোপুরি পরিকাঠামো ও লোকবলহীন করে অবহেলা করা হয়েছিল বলেও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে পরিবেশ রক্ষায় একগুচ্ছ বড় ঘোষণা ও কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আকাশপথ থেকে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ডুয়ার্সের বনাঞ্চলের বেহাল দশা নিজে চোখে দেখে শিউরে উঠেছেন বলে জানান তিনি। এরপরই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বন দপ্তরকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজ্যে কোনো রকম বেআইনি করাতকল বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরণের বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে এ দিন সল্টলেক বনবিতান থেকে এক মেগা কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশজুড়ে চলা ‘এক পেড় মা কে নাম’ (মায়ের নামে একটি গাছ) অভিযানের অংশ হিসেবে রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ চারাগাছ বিতরণের সূচনা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। চারাগাছগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে অন্তত ২ বছর সেগুলির নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে মোট ৭ কোটি ২০ লক্ষ চারাগাছ রোপণের মেগা লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।

পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ রুখতে উপকূলীয় জেলা ও বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় বেশি করে নারকেল গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পরিবেশের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এ দিন ৭টি বিশেষ রথ বা ট্যাবলো এবং সুন্দরবনের জন্য ১টি প্রচার নৌকারও ফ্ল্যাগ অফ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিনের হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও এবং প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাতে বৃক্ষরোপণ করেন এবং উপস্থিত স্কুলপড়ুয়াদের হাতে চারাগাছ তুলে দিয়ে আগামী প্রজন্মকে পরিবেশ বাঁচানোর পাঠ দেন।