প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজের ঘরের মাঠে প্রথম পা রেখেই নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নন্দীগ্রামের ধন্যবাদজ্ঞাপন ও নাগরিক সংবর্ধনা সভার মঞ্চ থেকে তিনি রীতিমতো চাঁছাছোলা ভাষায় রাজনৈতিক আক্রমণের সুর বেঁধে দেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নন্দীগ্রামের পানীয় জলের প্রকল্প থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রেল প্রকল্প—সব ধরনের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কাজ বিগত দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁর পাশে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক ইর্ষার কারণে এই এলাকার সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

এদিন নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তীব্র কটাক্ষের সুরে দাবি করেন, নন্দীগ্রামের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ যাকে আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তিনি এবার ভবানীপুরে নিজের বুথেই মুখ থুবড়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের মানুষ স্বয়ং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর নিজের বুথেই হারিয়ে উপযুক্ত রাজনৈতিক জবাব দিয়েছেন। নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক মাটি যে অন্যায়ের সাথে আপস করে না, ভবানীপুরের নির্বাচনী ফলাফল সেটাই প্রমাণ করেছে বলে মনে করেন তিনি।

এদিনের এই সভা থেকে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির জন্য পূর্বতন সরকারকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরের তৃণমূলী শাসনকাল পশ্চিমবঙ্গকে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের রাজকোষ আজ সম্পূর্ণ শূন্য এবং দেউলিয়া প্রায়। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বাংলার এই বেহাল দশা কাটিয়ে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের প্রধান এবং প্রথম লক্ষ্য।

রাজ্যের ভাঁড়ার শূন্য হলেও বাংলার মানুষকে আশাহত না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রাজ্যকে নতুন করে দাঁড় করাতে হবে, আর এই পুনর্গঠনের কাজে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার দুই হাত উজাড় করে সাহায্য করছে।” ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল যে এবার বাংলার মানুষ পেতে চলেছেন, সেই ইঙ্গিতও তিনি তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট করে দেন।

বক্তব্যের শেষে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিগত দিনে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখানে আটকে রাখা হয়েছিল, সেগুলিকে দ্রুত গতিতে চালু করা হবে। পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে খুব শীঘ্রই নতুন রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই ঝাঁজালো আক্রমণ শুধু ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং আইনি পরিধির মধ্যে থেকে আগামী দিনে রাজ্যের দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কড়া ও আপসহীন পদক্ষেপেরই এক স্পষ্ট আগাম বার্তা।