প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের নৃশংস ঘটনায় মূল অপরাধীদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ বা মৃত্যুদণ্ডের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, “SIT গঠন করে তদন্ত চলছে। পরিবার সরকারের কাছে যা চেয়েছেন, পাবেন। জঘন্যতম ঘটনা। এমন ভোগাব বুঝতে পারবে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যেমন একদিকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন, তেমনই ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধেও অল-আউট অ্যাকশনের বার্তা দিয়েছেন।
সোমবার ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুরের ঘটনাকে ‘জঘন্যতম অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই তিনি নির্যাতিতা কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। শোকগ্রস্ত পরিবারটি তাঁর ও রাজ্য প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, “ওর বাবা জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত করছি—পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তার প্রত্যেকটি তাঁরা পাবেন।”
মূল অপরাধের পাশাপাশি গত রবিবার নামখানা লাইনে রেললাইন উপড়ে ফেলা, পুলিশের গাড়ি জ্বালানো এবং সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গভীর রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতিকে অশান্ত করার নেপথ্যে থাকা ‘ভোটহারা অতৃপ্ত আত্মাদের’ উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, প্রথম জঘন্য অপরাধের বিচার হিসেবে দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কিন্তু এর সুযোগ নিয়ে যারা বাকি তিনটি কাণ্ড (ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হামলা) ঘটিয়েছে, তাদের কঠোর মাশুল গুনতে হবে। তাঁদের এমন শিক্ষা দেওয়া হবে বা ‘ভোগানো’ হবে যা তারা ভাবতেও পারছে না।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত ও দ্রুত আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে আইজি (IG) পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশ এবং এসটিএফ (STF) সমন্বিত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে। ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ২ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা) জারি করে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আগামীকাল অর্থাৎ ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) তিনি নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে (রাজ্য পুলিশের সদর দফতর) ডেকে পাঠিয়েছেন। সেদিন ভবানী ভবনে বসেই তিনি সরাসরি ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁদের সমস্ত অভাব-অভিযোগ ও দাবি নিজে শুনবেন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছে শাসক দল।