প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোট ফুরোলেই রাজনীতির রং ভুলে শুধু বাংলার মানুষের স্বার্থে এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে শাসক ও বিরোধী পক্ষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ১৮তম বিধানসভার নতুন বিধায়কদের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনী অধিবেশন থেকে এই নজিরবিহীন ও ইতিবাচক বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলমত নির্বিশেষে সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের একজোট হয়ে পশ্চিমবঙ্গকে আবার দেশের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক বড় সংকল্প শোনা গেল তাঁর কণ্ঠে।
উদ্বোধনী মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতাদর্শগত ফারাক বা বৈচিত্র্য থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু ভোটের লড়াই শেষ হওয়ার পর যখন একজন জনপ্রতিনিধি বিধানসভায় পা রাখেন, তখন তাঁর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের এলাকার এবং রাজ্যের মানুষের কল্যাণ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক লড়াই থাকবে শুধু ভোটের ময়দানে। কিন্তু যখন আমরা বিধানসভার ভেতরে এসে বসব, তখন আমাদের একটাই পরিচয়—আমরা জনগণের প্রতিনিধি। ট্রেজারি বেঞ্চ (সরকারি পক্ষ) এবং অপজিশন বেঞ্চ (বিরোধী পক্ষ) দুই পক্ষকেই একযোগে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এই ধ্বংসপ্রায় রাজ্যকে আবার নতুন করে দাঁড় করাতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী নতুন বিধায়কদের মনে করিয়ে দেন যে, বাংলার মানুষ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে তাঁদের নির্বাচিত করে আইনসভায় পাঠিয়েছেন। তাই বিধানসভার মূল্যবান সময়ের অপচয় না করে, প্রতিটি মুহূর্তকে জনমুখী আলোচনা ও গঠনমূলক বিতর্কের কাজে লাগাতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের আচরণ এবং বক্তব্য যেন সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে, সে বিষয়েও তিনি বিশেষ জোর দেন।
এদিনের এই ঐতিহাসিক কর্মশালায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের মতো জাতীয় স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গকে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপহার দেওয়ার বার্তা দেন, যেখানে প্রতিহিংসা বা বর্জনের রাজনীতি নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুস্থ সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিবেশ প্রাধান্য পাবে।