প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হতেই রাজ্যের যোগাযোগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে মহাবিপ্লব ঘটে গেল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই রাজ্যের জন্য এক অভূতপূর্ব উপহার নিশ্চিত করলেন শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং রাজ্যে নতুন শুভেন্দু সরকার—এই ‘ডবল ইঞ্জিন’ শাসনের প্রথম বড় চমক হিসেবে রাজ্যের ৩ টি বড় রেল প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এই মেগা সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গতি পেয়েছে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই চিঠি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয় যে আগামী দিনে বাংলার বুকে পরিকাঠামোগত রূপান্তর ঘটাতে চলেছে, এই চিঠি তারই অকাট্য প্রমাণ। নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেললাইনকে ডবল লাইনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয় এই অংশটিকে। ডবল লাইনের কাজ শেষ হলে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ট্রেন চলাচলের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিনের ট্রাফিক জ্যামের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে চলেছে।

দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের জন্য উৎসবের আবহ তৈরি করে সাঁতরাগাছি থেকে খড়গপুর হয়ে রাজস্থানের জয়পুর পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা, চিকিৎসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে যারা রাজস্থান যান, তাদের আর দিল্লির ওপর নির্ভর করতে হবে না। খড়গপুর তথা মেদিনীপুর অঞ্চলের মানুষ এই ট্রেনের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হবেন পশ্চিম ভারতের সাথে। অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শালবনি থেকে আদ্রা পর্যন্ত তৃতীয় রেললাইন নির্মাণের কাজ একধাপ এগিয়ে গেল। এই প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ (DPR) তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহণে এই লাইন আগামী দিনে মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের নতুন সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” নীতি মেনে বাংলার আমজনতার স্বার্থে কোনো কাজ আটকে থাকবে না। জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ—রেলের এই মেগা কানেক্টিভিটি আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।