প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর কোনো রেয়াত নয়, আইন সবার জন্য সমান! প্রবীণ বাম নেতা তথা প্রখ্যাত আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ ও কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল (১৪ অক্টোবর) নবান্নে মন্ত্রিসভার মেগা বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং হুমকি বা রক্তচক্ষুকে পরোয়া করে না নতুন বিজেপি সরকার। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং পুলিশের তলব এড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “উনি কি আইনের ঊর্ধ্বে? বাঘ না সিংহ? ওনাকে কেন ভয় পেতে হবে? আমি ছেড়ে দেওয়ার লোক নই, ফাইনালি সবাইকে আইন মানতেই হবে।”

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ অক্টোবর, যখন দক্ষিণ কলকাতায় বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে এক অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী হামলা চালিয়ে জানলার কাচ ভাঙচুর করে। এই ঘটনার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট লিখে এই হামলাকে “হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডাদের কাজ” বলে অভিহিত করেন। যদিও পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত বাপ্পা গুছাইতকে গ্রেপ্তার করে। বিকাশবাবুর এই মন্তব্যের পরেই কড়া আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, অপরাধীর কোনো ধর্ম হয় না এবং এভাবে “হিন্দুত্ববাদী” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে ভারতের সমগ্র সনাতন হিন্দু সমাজকে টার্গেট ও অপমান করা বরদাস্ত করা হবে না। বিকাশবাবুকে তাঁর পোস্ট থেকে এই শব্দবন্ধ প্রত্যাহার বা সংশোধন করার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছিল প্রশাসন।

সরকারের দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর অবস্থান থেকে অনড় থাকেন এবং পোস্ট সংশোধন করতে অস্বীকার করেন। এর জেরে কলকাতার গড়ফা ও কসবা থানাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সনাতন ধর্মকে অপমান করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যথাক্রমে গড়ফা ও কসবা থানায় তলব করলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। এই প্রসঙ্গেই গতকাল নবান্ন থেকে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ বলেন, “ওনার আদালত থাকতে পারে, উনি আইনজীবী হতে পারেন, তাতে কী? পুলিশ আবার নোটিশ পাঠাবে। আইন ভাঙলে তার ফলাফল কী হয়, তা আপনারা দ্রুত দেখতে পাবেন।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক হুঁশিয়ারির জবাবে বিন্দুমাত্র পিছু হঠতে নারাজ প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি নিজের বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে স্পষ্ট জানান যে তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে কোনো শব্দ প্রত্যাহার বা ডিলিট করবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারির জবাবে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি কী লিখব তা মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করে দিতে পারেন না। পুলিশ পুলিশের কাজ আইন মেনে করুক। একশোটি থানায় অভিযোগ হোক, তারপর আমি বুঝে নেব এবং সময়মতো বাউন্সার দেব।” দুর্গাপুজোর মেগা অনুদান ও রাজ্যে ৪৫,১৮৫টি পদে বড় সরকারি চাকরি দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণার আবহেই মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের এই নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক বাদানুবাদ এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতির পারদকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।