প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের নাগাল পেল সিবিআই (CBI)। শুক্রবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা এই খুনের নেপথ্যে থাকা মাস্টারমাইন্ড সন্দেহে সাগর সোনকার এবং সাহেব সোনকার নামে দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত এই দুই ভাই সরাসরি চন্দ্রনাথ রথকে খুনের সুপারি ও ব্লু-প্রিন্ট তৈরির সাথে যুক্ত ছিল।

সিবিআই-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ধৃত সাগর সোনকার ও সাহেব সোনকার নিহত চন্দ্রনাথ রথের অত্যন্ত পরিচিত ছিল এবং তারা চন্দ্রনাথের টিমের সাথেই যুক্ত হয়ে কাজ করত। কিন্তু এই পরিচিতির আড়ালেই লুকিয়ে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। সিবিআই আধিকারিকদের অনুমান, চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেই এরা পূর্ব পরিচিতির সুযোগ নিয়েছিল।

তদন্তকারী দল সূত্রে প্রকাশ, চন্দ্রনাথ রথকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্রটি কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নয়, বরং সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ থেকেই করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের ডিজিটাল এভিডেন্স এবং কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, ধৃত সাগর সোনকার চন্দ্রনাথের সাথে কাজ করলেও গোপনে একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে ল্যান্ডলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। এমনকি ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে সাগর ওই বিরোধী দলের এক বিধায়কের সঙ্গে কাজ করেছিল বলেও সূত্রের খবর। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই খুনের চুক্তি বা সুপারির মূল্য ছিল কয়েক কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের (মধ্যমগ্রাম) কাছে চন্দ্রনাথ রথকে খুব কাছ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় ভাড়াটে খুনিরা। সিবিআই জানতে পেরেছে, চন্দ্রনাথকে সরানোর পরিকল্পনা কিন্তু মে মাসে হঠাৎ করে হয়নি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বা চাবিকাঠি ছিলেন এই চন্দ্রনাথ। তাঁকে সরিয়ে শুভেন্দুর সংগঠনকে দুর্বল করতেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই এই খুনের ছক কষা হচ্ছিল, তবে বারবার নানা কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছিল।

চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে এ যাবৎ ৬ জন শুটার এবং ৩ জন মিডলম্যানসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার এই দুই ভাইকে গ্রেফতার করার পর সিবিআই নিশ্চিত যে, মূল রাজনৈতিক চক্রান্তের মূল মাথা পর্যন্ত পৌঁছানো এখন সময়ের অপেক্ষা। ধৃতদের আদালতে পেশ করে ৭ দিনের সিবিআই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।