প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে বড়সড় এক ওলটপালটের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত কয়েক বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট তারিখে যে বিশেষ দিবসটি মহা সমারোহে পালিত হতো, তা এক ঝটকায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল বর্তমান প্রশাসন। রবিবার মেচেদার হাইভোল্টেজ সাংগঠনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে কড়া বার্তা দিলেন, তা শুনে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১৬ই আগস্ট বাংলায় আর কোনো ‘খেলা’ হবে না। কিন্তু হঠাৎ কেন এই উৎসব বন্ধের পথে হাঁটল সরকার? আর ওই তারিখে ঠিক কী ঘটতে চলেছে রাজ্যে?এই বড় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “১৬ই আগস্ট দিনটি কলকাতার ইতিহাসের একটি অত্যন্ত কালো ও ভয়ঙ্কর দিন। ১৯৪৬ সালের এই দিনেই সুরাবর্দির উস্কানিতে ‘দ্য Great Calcutta Killing’ বা ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছিল। আর সেই অভিশপ্ত দিনটাকেই আগের তৃণমূল সরকার উৎসবের আমেজে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালন করত।”

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, নতুন সরকার এই ধারা পুরোপুরি বদলে দিতে বদ্ধপরিকর এবং সেই কারণেই এই আমূল পরিবর্তন। তবে শুধু আগের উৎসব বাতিল করাই নয়, সরকারের ১০০ দিন পূর্তির এই বিশেষ দিনটিতে সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশাল উপহারের কথা শুনিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১৬ই আগস্ট রাজ্যজুড়ে মহা ধুমধামে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’।

আর এই বিশেষ দিন থেকেই গোটা বাংলায় পুরোদমে চালু হয়ে যাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্প। যেখানে ৭০ বছরোর্ধ্ব রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রবীণ মানুষ সরাসরি বড় অঙ্কের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন। আর বাকি ৩০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসার জন্য একই সাথে কাজ করবে রাজ্য সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা’ প্রকল্প। সরকারের ১০০ দিন পূর্তির মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই মাস্টারস্ট্রোক পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।