প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ফ্ল্যাট বুকিং এবং অনলাইন খাবার বা সামগ্রী ডেলিভারির নামে চলা বেলাগাম দুর্নীতি ও প্রতারণা রুখতে এবার নজিরবিহীনভাবে খড়্গহস্ত হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুঠ হওয়া রুখতে আজ আয়োজিত রাজ্য স্তরের ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ (Consumer Rights Week)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে এভাবে সর্বস্বান্ত করার খেলা নতুন বিজেপি সরকারের আমলে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অতীতে রাজ্যের সাধারণ মানুষের ওপর ঘটে যাওয়া চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টানেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা অতীতে চিট ফান্ডের ভয়াবহ প্রতারণা দেখেছেন। ঠিক একইভাবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ফ্ল্যাট কেনা-বেচার নামে প্রচুর প্রতারণা হচ্ছে।” তিনি জানান, সল্টলেকে পার্টির কার্যালয়ে তাঁর ‘জনতার দরবার’ এবং সিএমআর-এর গ্রিভেন্স সেলে প্রতিদিন ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামে ভুয়ো বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে মধ্যবিত্তকে নিঃস্ব করার প্রচুর অভিযোগ আসছে।

শুধু ফ্ল্যাট বা আবাসন শিল্পেই নয়, সাধারণ মানুষের রোজকার জীবনের সাথে যুক্ত অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলির জালিয়াতি নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি একটি সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানের বড়সড় খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, “অনলাইনে খাবার বা জিনিসপত্র ডেলিভারির নামেও প্রতারণা করা হচ্ছে। অর্ডার নিচ্ছে কিন্তু ডেলিভারি দিচ্ছে না।” মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে জানান, মাত্র ১০ দিন আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট নিউ টাউনের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই প্রতারকেরা জোম্যাটোসহ বিভিন্ন নামী অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার নাম ভাঙিয়ে ভুয়ো বুকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করছিল।

রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মূল দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “ক্রেতাকে সুরক্ষিত করা এবং বিক্রেতাকে শিক্ষিত করা—এটাই ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আসল কাজ”। বিগত জমানায় এই দফতরটি চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়েছিল বলে তোপ দাগেন তিনি। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলা এই ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ উপলক্ষে বাউল গান, পথনাটিকা ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে নানা সরকারি কর্মসূচি ও প্রচার চালানো হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।