প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিল্লিতে সুবিধা করতে না পেরে এবার উৎসবের মরশুমে খাস কলকাতায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলকে চরম ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ২ টোয়, রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত তৃণমূলের ডাকা তথাকথিত ‘প্রতিবাদ মিছিল’-এর রুট ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর মরশুমে শহরবাসীকে ভোগান্তির হাত থেকে বাঁচাতে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “তৃণমূলকে রাজাবাজার থেকে এক পা-ও এগোতে দেওয়া হবে না। আমি পুলিশ কমিশনারকে (CP) নির্দেশ দিয়েছি, যেখানে মিছিল শুরু হবে, সেখানেই যেন শেষ করে দেওয়া হয়। দুর্গাপুজোর মধ্যে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজন হলে সেন্ট্রাল ফোর্স (কেন্দ্রীয় বাহিনী) নামানো হবে।”
একটি পুজো উদ্বোধনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করব, বয়সে তিনি বড়, এগুলো না করাই ভালো। আর কেনই বা তিনি রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস এলাকা বেছে নিলেন?” মিছিলের জন্য সংখ্যালঘু প্রধান এই নির্দিষ্ট রুট বেছে নেওয়াকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দুর খোঁচা, “খুব ভাল জায়গা সিলেকশন করেছেন! যারা নবরাত্রি পালন করছেন এবং উপোস বা ব্রত রাখছেন, তারাই এর উপযুক্ত জবাব দিয়ে দেবে।” তিনি দাবি করেন, আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের যা একটু অবশিষ্ট রয়েছে, সাধারণ মানুষ তাও পুরোপুরি সাফ করে দেবে।
কেবল এই মিছিলের রুট নয়, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে মমতার ধর্না আন্দোলনকেও ধুয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লির সেই বিক্ষোভকে ‘ডিপ স্টেট কনস্পিরেসি’ বা গভীর রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, “উনি দিমাগী নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দিল্লিতে গিয়ে দেশ ভাঙার চক্রান্ত করছেন। যে সিপিএমের বিরোধিতা করতে গিয়ে ওনার তৃণমূল দল গঠন করা, আজ দিল্লিতে নিজের স্বার্থে সেই সিপিএম নেতা এম এ বেবির পায়ে পড়ছেন মমতা।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবীপক্ষের তৃতীয়ায় যখন গোটা কলকাতা জুড়ে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন শুরু হয়ে গিয়েছে এবং মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ভিড় বাড়ছে, তখন রাজাবাজার, সিআইটি রোড ও পার্ক সার্কাসের মতো শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও স্পর্শকাতর রুটে এই রাজনৈতিক মিছিল সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দ মাটি করার এক পরিকল্পিত চক্রান্ত। সমালোচকদের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি এখন সম্পূর্ণ আলগা। নিজেদের হারের গ্লানি ঢাকতে এবং নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর বিরুদ্ধে অবাস্তব ‘ভোট চুরির’ তত্ত্ব খাড়া করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজোকে বানচাল করার এই নোংরা খেলায় নেমেছেন। শুভেন্দু সরকারের এই কড়া অবস্থান এবং রাজাবাজারে পুলিশি ব্যারিকেড ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের হুঁশিয়ারির পর, তৃণমূল আজ শেষ পর্যন্ত মিছিল বের করার সাহস পায় কি না, এখন সেটাই দেখার।