প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভেতরের চেনা বিশৃঙ্খলা আর হট্টগোলের সংস্কৃতিকে সমূলে উপড়ে ফেলতে আজ এক নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে বহুবার বিধানসভা কক্ষের ভেতরে যে ধরণের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখেছে রাজ্যবাসী, নতুন সরকারের আমলে তা যে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, তা আজ প্রথম অধিবেশনেই স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী বেঞ্চ থেকে তৃণমূল বিধায়করা তুমুল হট্টগোল ও স্লোগানবাজি শুরু করেন। বিরোধীদের এই হাঙ্গামার জবাবে বিন্দুমাত্র উত্তেজিত না হয়ে, অত্যন্ত শান্ত অথচ কঠোর ভাষায় সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী।
নবনিযুক্ত স্পিকার রথীন্দ্র বোসকে অভিনন্দন জানানোর পর হাউসকে সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিধানসভা কোনো মারামারি বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। এটি রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের পবিত্র স্থান।” তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন যে, হট্টগোল করে বা কাজের পরিবেশ নষ্ট করে বাংলার মানুষের অধিকারকে খর্ব করা যাবে না। সরকার সস্তা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এবং সংবিধান মেনে হাউস পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং মার্জিত। তিনি একদিকে যেমন বিশৃঙ্খল আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন, ঠিক তেমনই সুস্থ গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, বিরোধীরা যদি জনস্বার্থে কোনো গঠনমূলক আলোচনা বা সমালোচনা করতে চান, তবে সরকার তাঁদের সবরকম সহযোগিতা করবে। কিন্তু আলোচনার নামে যদি কেউ আইনসভার গরিমা নষ্ট করতে আসেন, তবে আইন নিজের পথেই চলবে। প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর এমন অনমনীয় মনোভাব দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা—এবার হয়তো আমূল বদলে যেতে চলেছে বিধানসভার ভেতরের চেনা ছবি।