প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের মসনদে বসার পর আজ ছিল প্রথম অগ্নিপরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষাতেই বড়সড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর যা ঘোষণা করলেন তিনি, তাতে কার্যত তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘যুবসাথী’র মতো প্রকল্পগুলো নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা এক লহমায় পরিষ্কার করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বিরোধীদের একাংশ প্রচার করছিল যে নতুন সরকার এলে সামাজিক প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। আজ সেই আশঙ্কায় জল ঢেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে তিনি সাফ জানান, “আগে থেকে চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না। তা সে ১০ বছর বা ৩০ বছর আগেরই হোক না কেন।” অর্থাৎ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে যুবসাথী—সবই চলবে। তবে, আমূল বদলে যাচ্ছে এর পরিচালনার পদ্ধতি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এবার থেকে সরকারি প্রকল্পের টাকা বিলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতাই হবে শেষ কথা। মোদী সরকারের ধাঁচে এবার থেকে DBT (Direct Benefit Transfer) বা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার পদ্ধতিতে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। এর ফলে মাঝপথে টাকা কেটে নেওয়া বা ‘কাটমানি’ খাওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলোর পোর্টাল দ্রুত আপডেট করা হবে। কোনো মৃত ব্যক্তি বা যারা এ দেশের নাগরিক নন, তারা যাতে সরকারি কোষাগার থেকে অন্যায়ভাবে সুবিধা না নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি খয়রাতির প্রতিটি পয়সা যাতে যোগ্য ব্যক্তির হাতে পৌঁছায়, সেটাই শুভেন্দু সরকারের মূল লক্ষ্য।
শুধু পুরনো প্রকল্প ধরে রাখা নয়, প্রথম দিনেই রাজ্যবাসীকে উপহারের ডালি সাজিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। এছাড়া সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দিয়ে যুবশক্তির মনে বড়সড় জায়গা করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রথম মন্ত্রিসভার এই বৈঠক থেকে এটা স্পষ্ট যে, শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়নের চাকা সচল রাখার পাশাপাশি দুর্নীতির চোরাবালি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার, এই নতুন ‘সিস্টেম’ সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।