প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে যে মেদিনীপুর তৃণমূলকে ‘না’ বলে দিয়েছিল, ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে সেই হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুরে বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তি এখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাথাব্যথার প্রধান কারণ। সেই আবহেই আগামী ২৪ মার্চ থেকে মেদিনীপুরের মাটিতে পা রাখছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সব ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই নন্দীগ্রাম—যেখানে একুশে মুখ থুবড়ে পড়েছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয় রথ। আগামী ২৫ মার্চ দুপুর ২টোর সময় নন্দীগ্রামে একটি বিশেষ কর্মিসভায় যোগ দেবেন অভিষেক। অনেকেই বলছেন, পাথরপ্রতিমা বা দাসপুরে বড় জনসভা করলেও, নন্দীগ্রামে কেন শুধুমাত্র ‘কর্মিসভা’? বিজেপি শিবিরের টিপ্পনি— শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে বড় জনসভা করে ‘ফ্লপ’ হওয়ার ভয়েই কি এই কৌশলী পিছুটান? নাকি বুথ স্তরে সংগঠনের কঙ্কালসার দশা ঢাকতেই এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আশ্রয়? তবে শেষ পর্যন্ত এটা কর্মী সভাতেই আবদ্ধ থাকে, নাকি অন্যান্য সভার মত এখানেও জনসভা করেন অভিষেকবাবু, সেটা সময় বলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে নেত্রী পরাজিত হয়েছিলেন, সেখানে ভাইপো কতটা সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রবল আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, আগামী ২৫ মার্চ দুপুর দুটোর সময় নন্দীগ্রামে হাইভোল্টেজ কর্মিসভা। যেখানে নজর থাকবে সারা বাংলার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহল বেল্টে পদ্ম-ঝড় রোখাই এখন তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ২০২১-এ নন্দীগ্রামের মানুষ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছিল তারা ‘পরিবারতন্ত্র’ নয়, বরং ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু অধিকারীর ওপরেই আস্থা রাখে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন উপনির্বাচন বা গ্রামীণ ভোটেও মেদিনীপুর জুড়ে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “যাঁরা মানুষের রায়ে নন্দীগ্রামে একুশে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন, তাঁরা যতই সভা করুন না কেন, ২০২৬-এ বাংলার মানুষ তাঁদের চিরতরে বিসর্জন দেবে। নন্দীগ্রাম ছিল ট্রেলার, ২৬-এ পুরো সিনেমা দেখবে পিসি-ভাইপো। মেদিনীপুরের মাটি ‘তোলাবাজমুক্ত’ করার যে ডাক শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন, তার সামনে ভাইপো-র এই চাণক্য নীতি টিকবে না।” এই সফরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠন চাঙ্গা করার যতই চেষ্টা করুন না কেন, নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ আদৌ তাঁকে গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দুর্গে আবারও ঘাসফুল শিবির মুখ থুবড়ে পড়বে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর আগে নন্দীগ্রামই হতে চলেছে তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার শেষ মরণপণ লড়াই।