প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের যাবতীয় আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান সাধারণ মানুষের সামনে আনতে প্রতিটি সরকারি দফতরের পক্ষ থেকে একটি করে ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশ করা হবে। এর পাশাপাশি, বিগত সরকারের আটকে রাখা শেষ ৪ বছরের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর অডিট রিপোর্টও বিধানসভার টেবিলে পেশ করতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রাজ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা কায়েম করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
সরকারি সূত্রে খবর, তৃণমূল জমানার শেষ চার বছরের অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত কোনো ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। লোকভবনের পক্ষ থেকে বারবার তৎকালীন সরকারকে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সেই অডিট রিপোর্ট এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চলতি বাজেট অধিবেশনেই সেই বকেয়া চার বছরের ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ করে পূর্বতন সরকারের আর্থিক অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আনা হবে।
শুধুমাত্র ক্যাগ রিপোর্টই নয়, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রক ও সরকারি দফতরে কীভাবে জনগণের টাকা ব্যবহার হয়েছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে প্রতিটি দফতরভিত্তিক আলাদা শ্বেতপত্র প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে সরকারি তহবিল ও কেন্দ্রীয় অনুদানের টাকা কোন কোন খাতে খরচ হয়েছে, তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বিজেপি সরকারের বড় অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির জন্য পাঠানো প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার কোনো সঠিক ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ (UC) বা খরচের হিসাব দিল্লির কাছে জমা দেয়নি পূর্বতন শাসকদল। ক্যাগ রিপোর্টের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ হিসেবহীন খরচের আসল সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সম্প্রতি বিধানসভায় প্রথম বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছিলেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের থেকে বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রায় ৮,১৫,৮৯১ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা পেয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে পূর্বতন সরকারের ভুল নীতি ও আর্থিক অপচয় কতটা দায়ী ছিল, শ্বেতপত্র ও ক্যাগ অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে তাও জনসমক্ষে আনা সম্ভব হবে।
নতুন অর্থমন্ত্রীর এই জোড়া ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ক্যাগ রিপোর্ট ও শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বিগত জমানার মেগা দুর্নীতিগুলি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হবে। অন্যদিকে, এই পদক্ষেপের পর বিরোধী শিবিরের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।