প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নদীয়ার কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণীর স্কুলছাত্রী তামান্না খাতুন খুনের মামলায় ক্রমশ জোরালো হচ্ছে পুলিশের জালে থাকা অপরাধীদের ফাঁস। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা এবং বিধানসভায় নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশি অভিযানে এই ঘটনায় যুক্ত থাকা আরও ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে তামান্না হত্যাকাণ্ডে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯-এ।

তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্তদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভিনরাজ্যেও চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল হরিয়ানার গুরুগ্রামে (গুরগাঁও) হানা দেয়। সেখান থেকে এই খুনের মামলায় জড়িত এক প্রভাবশালী অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে ইতিমধ্যেই রাজ্যে নিয়ে এসেছে পুলিশ। আজই নতুন করে ধৃতদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ প্রশাসন।

কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। সেই সময় হওয়া ব্যাপক বোমাবাজির আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ছোট্ট তামান্নার দেহ। ঘটনার পর নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিন ২৪ জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত থমকে থাকার পর, সম্প্রতি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তামান্নার মা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পরপরই রাজ্য পুলিশ কোমর বেঁধে ময়দানে নামে এবং একের পর এক পলাতক অভিযুক্তকে জালে তুলতে শুরু করে।

এই গ্রেফতারির পর নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকার দায়বদ্ধ। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বাকি পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ।