প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের জন্য এবার টাটা, বিড়লা থেকে শুরু করে আদানিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার জন্য সব রকমভাবে ঝাঁপাতে প্রস্তুত নতুন সরকার। গতকাল বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। সিঙ্গুর আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস এবং বাংলায় টাটার কারখানা না হওয়ার ট্র্যাজেডিকে মনে করিয়ে দিয়ে এদিন মন্ত্রী যে আবেগঘন ও তীক্ষ্ণ বক্তব্য রেখেছেন, তা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আজ বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন বাংলার নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও শিল্পায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বিগত বামফ্রন্ট বা তৃণমূল জমানার রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে একপাশে সরিয়ে রেখে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই বর্তমান বিজেপি সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটার স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, “রতন টাটা বেঁচে থাকলে আমি নিজে তাঁর পায়ে ধরে টাটা গোষ্ঠীকে বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতাম।” রাজ্যে টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন নিয়ে একশো শতাংশ আশাপ্রকাশ করে তাপস রায় ঘোষণা করেন, “রাজ্যে টাটা ফিরবেই। টাটার কাছে যদি যেতে হয়, বাংলার নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের স্বার্থে আমি নিজে যাব।”

কেবল টাটা নয়, দেশের সমস্ত বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীকে বাংলায় স্বাগত জানাতে বর্তমান সরকার যে একপায়ে খাড়া, তা পরিষ্কার করে মন্ত্রী বলেন, “টাটা, বিড়লা হোক বা আদানি—বাংলার নতুন প্রজন্মের জন্য আমি সবার কাছে যাব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন শাসক দল বিজেপির এই শিল্প নীতি রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সিঙ্গুরের অতীত বিতর্ককে কাটিয়ে টাটা গোষ্ঠীকে বাংলায় ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের জন্য যেমন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই এটি একটি বিশাল রাজনৈতিক জয় হিসেবেও গণ্য হবে। বিরোধী দল তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এই বক্তব্যের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজ্যের নতুন প্রজন্মের জন্য এই ‘শিল্প বার্তা’ আগামী দিনে কত বড় বিনিয়োগ টেনে আনতে পারে, এখন সেটাই দেখার।