প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং দলীয় প্রতীক ফ্রিজ করার ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ আসার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই আবহেই আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের বর্তমান শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়। তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়ের শিবিরের মধ্যে চলা চরম আইনি লড়াইয়ের পর কমিশনের এই কড়া সিদ্ধান্তকে ইঙ্গিত করে তিনি এই চাঁছাছোলা আক্রমণ শানিয়েছেন।

আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “এই সিদ্ধান্ত তো হওয়ারই ছিল। এটা সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত। ক্ষমতার অলিন্দে থাকার সময় এত দম্ভ, এত অহংকার ছিল যে সাধারণ মানুষ তো দূর, দলের এবং প্রশাসনের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মী-আধিকারিকদের মাথায় পা দিয়ে চলতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই ওনার পাওনা ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলটা যত তাড়াতাড়ি উঠে যায়, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য ততই মঙ্গল। যেভাবে উনি বিগত দিনে স্বৈরাচারী কায়দায় দল ও প্রশাসন চালিয়েছেন এবং সহকর্মীদের ক্রমাগত অপমান করেছেন, তারই খেসারত আজ ওনাকে দিতে হচ্ছে।”

গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রতীক ও নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিদ্রোহী অরূপ রায়ের গোষ্ঠী—কোনো পক্ষই আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১১টার মধ্যে উভয় পক্ষকেই কমিশনের কাছে ৩টি বিকল্প নাম এবং মুক্ত প্রতীকের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার ওপর ভিত্তি করে আসন্ন অক্টোবর মাসের উপনির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।