প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তারাতলা গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় এবার আরও চড়ল রাজনৈতিক পারদ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় যে নথি বা সই দেখিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এবার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ (ববি) হাকিমকে সরাসরি হেফাজতে নেওয়ার দাবি তুললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আজ, শনিবার বিকেল ৫:০০ টার মধ্যে ববি হাকিমকে গ্রেফতার করার এক অভূতপূর্ব ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ভেঙে পড়া ওই গোডাউনের প্ল্যানে ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। এই দাবির প্রেক্ষিতেই আজ সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র আক্রমণ শানান কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন নিজে কাগজ দেখিয়ে দাবি করছেন যে ববি হাকিমের সই রয়েছে, তাহলে কেন তাঁকে এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে না? যদি তারাতলা কাণ্ডে প্রাক্তন মেয়রের প্রকৃতই কোনও যোগ বা দোষ থাকে, তবে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে।

এখানেই থামেননি কুণাল ঘোষ। এই ডেডলাইনের মাধ্যমে তিনি আদতে মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছাকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াক করিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, বিকেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বৈঠক রয়েছে। যদি বিকেল ৫টার মধ্যে ববি হাকিম গ্রেফতার হন, তবে বোঝা যাবে মুখ্যমন্ত্রী অন্তর থেকে সত্যি কথা বলেছিলেন এবং সরকার সত্যিই ব্যবস্থা নিতে চায়।পাশাপাশি একটি বড় আশঙ্কা প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করেন, ববি হাকিমকে যদি গ্রেফতার না করে শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয় বা তাঁকে দিয়ে কাউন্সিলর ভাঙানোর মতো কাজ করানো হয়, তবে বুঝতে হবে সরকারের এ বিষয়ে কোনও সদিচ্ছা নেই। একে তিনি রাজনীতির ‘কুনকি হাতির কাজ করানো’র সাথে তুলনা করেছেন।

তদন্ত প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষের সাফ দাবি, যদি এই বিপর্যয়ে প্রাক্তন মেয়রের কোনও দায় থাকে, তবে যেন শুধু নীচুতলার কর্মী বা ওএসডি (OSD) কালীচরণকে ধরে বিষয়টি ধামাচাপা না দেওয়া হয়। মূল মাথা বা বড় নাম হিসেবে ববি হাকিমকেও অবিলম্বে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা উচিত। বিকেল ৫টার এই ডেডলাইন ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।