প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার তারাতলা থানা এলাকার ব্রেসব্রিজে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনায় সক্রিয় পুলিশ। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে চিরুনি তল্লাশি চালায়। বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে গুদামের মূল মালিক ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার সহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তভার লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে তুলে দিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন গুদামের মূল মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বুধবার মধ্যরাতে জেমস লং সরণির একটি আবাসন থেকে নাটকীয়ভাবে শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত শম্ভুনাথ ‘বেহেরা ব্রাদার্স’-এর মালিক এবং তিনিই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্টের কাছ থেকে জমিটি লিজে নিয়ে গুদাম নির্মাণের তদারকি করছিলেন।

মালিক ছাড়াও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অপরাধে পুলিশ আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলেন:কমল সামন্ত: লোহার কাঠামো নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। সৈয়ত মহম্মদ গুলজার: ‘আয়ান ট্রেডার্স’-এর সাইট সুপারভাইজার। মহম্মদ আতাউল: নির্মাণ কাজের শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদার।দিবাকর ভাণ্ডারি (ওরফে সুভাষ চৌধুরী): শ্রমিক সরবরাহকারী অন্যতম ঠিকাদার। এছাড়াও কলকাতা পুরসভা থেকে বেআইনিভাবে ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করানোর অভিযোগে আব্দুল হামিদ নামের এক দালালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক কড়া ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ধারা ১০৫ (খুন নয় এমন অপরাধমূলক নরহত্যা), ধারা ১১০ (অপরাধমূলক হত্যার চেষ্টা) এবং ধারা ৩(৫) (সম্মিলিত অপরাধ)-এর অধীনে মামলা দায়ের করেছে। প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে, বিল্ডিং প্ল্যানে মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এবং দুর্ঘটনার দিন সকালে কাঠামোটি কাঁপতে থাকা সত্ত্বেও জোর করে শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছিল। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে ধৃতদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।