প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘ তিন দশক এবং কলকাতা থেকে প্রায় ১৯ বছর নির্বাসিত থাকার পর ফের এপার বাংলায় ফিরেছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতায় পা দিয়েই ওপার বাংলার সাম্প্রতিক উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। অতীতে যাঁর জমানায় তসলিমা নাসরিনের বই নিষিদ্ধ হয়েছিল এবং যাঁকে তসলিমার ঘোর বিরোধী বলে মনে করা হতো, সেই শেখ হাসিনার ভাগ্য নিয়েই এবার প্রকাশ্য আদালতে সওয়াল করলেন এই লেখিকা।
তসলিমা নাসরিন সাফ জানান, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা একটি সম্পূর্ণ “অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ”। কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে নির্বাচন বা রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায় না।’
তসলিমা নাসরিন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর যেভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই পদ্ধতিটি ভুল ছিল। নির্বাসনের যন্ত্রণা ঠিক কতটা কঠিন, তা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন তসলিমা। সেই সহানুভূতির জায়গা থেকেই তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসা উচিত এবং নিজের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার তাঁর পাওয়া দরকার। দল নিষিদ্ধ না করে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল যে তাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন কি দেবেন না।”
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন তসলিমা নাসরিন। তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থা রুখতে সমস্ত মাদ্রাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক স্কুলে রূপান্তরিত করা উচিত।একসময়ের কট্টর হাসিনাবিরোধী লেখিকার মুখে আজ শেখ হাসিনার জন্য এই সওয়াল ওপার এবং এপার—দুই বাংলার রাজনৈতিক মহলেই এক নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।