প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভারতীয় ক্রীড়া জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি এবং টেনিসের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব লিয়েন্ডার পেজ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে এক বড়সড় ‘ভলি’ মারলেন। ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদের জল্পনার সত্যি করে আজ নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিলেন ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির সদর দপ্তরে এক জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে লিয়েন্ডারের হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেওয়া হয়। লিয়েন্ডারকে উত্তরীয় পরিয়ে এবং পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান বিজেপি নেতৃত্ব। টেনিসের রাজপুত্রের এই যোগদানকে ঘিরে দিল্লিতে বাংলার বিজেপি সাংসদদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উন্মাদনা।

২০২১ সালের অক্টোবর মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন লিয়েন্ডার। গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের হয়ে কোমর বেঁধে প্রচারও করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি কমতে শুরু করে। আজ বিজেপিতে যোগ দিয়ে লিয়েন্ডার স্পষ্ট করে দিলেন কেন তিনি এই বদলটি করলেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে টেনিস কোর্টে ভারতের তেরঙার সম্মান রক্ষায় লড়াই করেছি। এবার দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার সময় এসেছে। গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেভাবে ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং অ্যাথলেটদের জন্য কাজ করেছেন, তা অভাবনীয়। তাঁর নেতৃত্ব এবং দেশের উন্নয়ন যজ্ঞ আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি মনে করি, বিজেপির মাধ্যমেই আমি দেশের সেবা করার সঠিক প্ল্যাটফর্ম পাব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে লিয়েন্ডার পেজকে দলে টানা বিজেপির এক সুপরিকল্পিত চাল। বাংলার মানুষের কাছে লিয়েন্ডার এক আবেগের নাম। তাঁর বাবা ভেস পেজ অলিম্পিক পদকজয়ী হকি তারকা এবং লিয়েন্ডার নিজেও কলকাতার সন্তান। এই ‘বেঙ্গল কানেকশন’ এবং লিয়েন্ডারের বিশ্বব্যাপী পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিশেষ করে বাংলার শহুরে মধ্যবিত্ত, যুবসমাজ এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে চাইছে।

সুকান্ত মজুমদার এই যোগদান প্রসঙ্গে বলেন, “লিয়েন্ডার পেজ শুধু আমাদের গর্ব নন, তিনি লড়াইয়ের প্রতীক। তাঁর মতো একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আইকন আমাদের দলে আসায় বাংলা বিজেপি এক নতুন অক্সিজেন পেল। আগামী নির্বাচনে তিনি আমাদের অন্যতম বড় মুখ হতে চলেছেন।”

লিয়েন্ডারের বিজেপিতে যোগদান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ক্রীড়া জগত থেকে রাজনীতিতে এসে এর আগে অনেকেই সফল হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ পদক জয়ী এই যোদ্ধা রাজনীতির কর্দমাক্ত পিচে কতটা সফলভাবে তাঁর ‘এস’ (Ace) সার্ভিস দিতে পারেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে লিয়েন্ডারের এই দলবদল নিয়ে এখনই বড় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।