প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশের মেগা সমাবেশের ঠিক আগের দিনই এক লহমায় স্তব্ধ বিরোধী শিবিরের প্রধান চালিকাশক্তি! শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে যখন রাজ্যের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির, ঠিক তখনই আদালত কক্ষ থেকে নেমে এলো চরম এক বিপর্যয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) কর্তৃক তৃণমূল কংগ্রেসের ৩টি মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের ওপর কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইডির এই সমান্তরাল আর্থিক তদন্ত চলাকালীন আদালত এই মুহূর্তে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে ৪৪০ কোটি টাকা অ্যাকাউন্টে থাকা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর পর নিজেদের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক ইভেন্টের ঠিক আগের দিন দলীয় তহবিল ছোঁয়ার আইনি অধিকার হারাল ‘কালীঘাট-তৃণমূল’।

এর আগে তৃণমূলের এক বিদ্রোহী বিধায়কের এফআইআরের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশ যখন এই অ্যাকাউন্টগুলি জ্যাম করেছিল, তখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের নজরদারিতে দৈনিক খরচ ও আইনি খরচের টাকা তোলার সাময়িক ছাড় দিয়েছিল। ২১শে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের বিপুল খরচ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার জন্য ওই একই সুবিধা বজায় রাখার আর্জি নিয়ে এবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের আইনজীবী। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি পিএমএলএ (PMLA) আইনের আওতায় স্বাধীনভাবে আর্থিক তছরূপের অভিযোগে এই ৩টি অ্যাকাউন্ট নতুন করে লক করায় আগের সমস্ত আইনি ছাড়পত্র পুরোপুরি খারিজ হয়ে গেল।

ফ্রিজ হওয়া ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, এপ্রিল ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া’ নামক একটি সংস্থায় বিমান ও হেলিকপ্টার কেনা এবং ভাড়ার নামে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বেআইনিভাবে লেনদেন ও অর্থ পাচার করা হয়েছে। এই টাকার একটি বড় অংশ সরাসরি খরচ করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল ‘এমব্রায়ের লিগ্যাসি ৬০০’ বিজনেস জেট এবং একটি ‘অগাস্টাওয়েস্টল্যান্ড ১০৯এসপি’ হেলিকপ্টার কেনার জন্য।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কামব্যাক সমাবেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ৪৪০ কোটি টাকার মূল ফান্ড এভাবে পুরোপুরি ‘লক’ হয়ে যাওয়া কালীঘাটের জন্য সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ও সাংগঠনিক ধাক্কা। এখন দেখার, আগামীকাল ২১শে জুলাইয়ের হাইভোল্টেজ মঞ্চ থেকে আদালতের এই নির্দেশ এবং ইডির পদক্ষেপ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী বার্তা দেন।