প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর এবার দেশের সংসদেও ধূলিসাৎ হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্রাজ্য। দিল্লির রাজনীতিতে নজিরবিহীন ভূমিকম্প ঘটিয়ে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদ একজোট হয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) শিবিরের শরিক হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদসংস্থা PTI-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজেদের সই করা একটি যৌথ চিঠি ইতিমধ্যেই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। সংবিধানের ১০ম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) অনুযায়ী, কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সদস্য একসঙ্গে দল ছাড়লে তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল হয় না। ২০ জন সাংসদ একসঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় তাঁরা আইনত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং স্পিকারের কাছে তাঁরা লোকসভায় পৃথক ব্লক বা এনডিএ শরিক হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করছেন। এই ভাঙনের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা— তৃণমূলের ‘জাতীয় দলের তকমা’ কি এবার চিরতরে শেষ? তবে আইনি পরিভাষায়, নির্বাচন কমিশন (ECI) খতিয়ান ও খারাপ পারফরম্যান্সের জেরে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসেই তৃণমূলের জাতীয় দলের তকমা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ২০২৬-এর এই মহাবিদ্রোহের পর এবার দলের আঞ্চলিক বা রাজ্যস্তরের দলের অস্তিত্বও বড়সড় আইনি ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়তে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দলীয় সূত্রের খবর, দিল্লির চাণক্য নীতিতে এই অপারেশনের নেপথ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে শুভেন্দুবাবুর উপস্থিতিতেই এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। বিক্ষুব্ধ শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ, দলে পিসি-ভাইপোর স্বৈরাচার এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যপদ্ধতির কারণে দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দেব (দীপক অধিকারী), শতাব্দী রায় ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একাধিক হেভিওয়েট সাংসদ এই বিক্ষুব্ধদের তালিকায় রয়েছেন বলে বিশেষ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এর আগেই দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায়।
বাংলায় সদ্য গঠিত হওয়া বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়ন যজ্ঞের জোয়ার এবার দিল্লিতেও এসে পৌঁছাল। অহংকারের পতন যে নিশ্চিত ছিল, পিসির দলের এই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়াই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।