প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও তোলপাড় ফেলা সমীকরণের জন্ম দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল সম্পূর্ণ নতুন একটি চিকিৎসকদের সংগঠন—‘সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা’। চিকিৎসকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাগত মান উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এই মঞ্চের সূচনা হলেও, এর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রথম ঘোষণাতেই রাজ্য রাজনীতি এবং স্বাস্থ্য মহলে রীতিমতো মহাবিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছে। নবগঠিত এই চিকিৎসক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কলকাতার প্রখ্যাত ও সিনিয়র হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর প্রকাশ কুমার হাজরা। দায়িত্ব নিয়েই তিনি যে রাজনৈতিক ফতোয়া জারি করেছেন, তা অতীতে কোনো চিকিৎসক সংগঠনের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। ডক্টর হাজরা স্পষ্ট এবং কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে যারা সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস বা তাদের চিকিৎসক সেলের সাথে যুক্ত ছিলেন, এই নতুন সংগঠনের কমিটিতে তাদের কোনও স্থান দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, তৃণমূলপন্থীদের জন্য এই সংগঠনের দরজা পুরোপুরি বন্ধ।
এই চিকিৎসক সংগঠনের চেয়েও বর্তমানে বেশি চর্চা হচ্ছে এর শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে, কারণ ডক্টর প্রকাশ কুমার হাজরা চিকিৎসা মহলে এক অত্যন্ত পরিচিত এবং আলোচিত নাম। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার বালিগঞ্জের প্রাইভেট চেম্বারে বসা এই নামী কার্ডিওলজিস্টের একটি বিশেষ অফার ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। ডক্টর হাজরা তখন ঘোষণা করেছিলেন, কোনো রোগী যদি তাঁর ক্লিনিকে এসে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন বা সেই সংক্রান্ত কোনো পোস্টার দেখান, তবে তাঁর ভিজিট বা ফিজ থেকে সরাসরি ৫০০ টাকা ছাড় (Discount Offer) দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে চিকিৎসকের এই চমকপ্রদ অফার ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ ও বিতর্ক তৈরি হয়। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) সহ বিভিন্ন মহল তখন চিকিৎসায় রাজনীতি ও ধর্মীয় স্লোগান জড়ানোর দায়ে তাঁর কড়া সমালোচনা করেছিল। যদিও ডক্টর হাজরা নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছিলেন, তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ এবং এই ছাড়ের সুবিধা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্যই খোলা ছিল।
সংগঠনের নাম ‘সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা’ কেন রাখা হলো এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দিকে ইঙ্গিত করে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডক্টর প্রকাশ কুমার হাজরা স্পষ্ট জবাব দেন। তিনি বলেন, “সনাতন কথাটি কোনো ভেদাভেদের সৃষ্টি করে না। হিন্দু ধর্ম সবাইকে আঁকড়ে রাখে এবং ভালোবাসে। তাই যার এই নামে অসুবিধা রয়েছে তিনি চিকিৎসা করাতে আসবেন না, আর যার কোনো অসুবিধা নেই তিনি স্বাচ্ছন্দে আসবেন।” তিনি আরও জানান, বিগত জমানায় চিকিৎসকেরা যেভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, ভবিষ্যতে সেই সমস্ত বিপদে চিকিৎসকদের পাশে থেকে একতাবদ্ধ লড়াই চালানোই এই সেনার প্রধান কর্মসূচি।তৃণমূল ঘেঁষা চিকিৎসকদের পুরোপুরি ছেঁটে ফেলে এবং এক নজিরবিহীন ফতোয়া জারি করে গঠিত হওয়া এই নতুন প্ল্যাটফর্ম আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক স্বাস্থ্য রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।