প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের একবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার পূর্বস্থলীর নির্বাচনী জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলায় বিজেপির সরকার আসা মানেই দুর্নীতির দিন শেষ। এদিন প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি দমনে ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশের হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূলের ‘ভয়ের রাজত্ব’ খতম করার ডাক দিয়েছেন।

পূর্বস্থলীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের ছ’টি গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। এখন সেই প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণের সময় এসেছে। তৃণমূলের নির্মম সরকার রাজ্যে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, আমার গ্যারান্টি সেই ভয় সরিয়ে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনবে।” তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূলের আমলে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং উন্নয়নের টাকা লুট করা হয়েছে।

এদিন মোদীর বক্তৃতার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল দুর্নীতির বিচার। তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের আমলের যাবতীয় দুর্নীতির খতিয়ান জনসমক্ষে আনতে একটি ‘শ্বেতপত্র’ জারি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূলের সব সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের হিসাব করা হবে। গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোথায় কী দুর্নীতি হয়েছে, কার পকেটে টাকা গেছে, তার পাই-পাই হিসাব নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে বাধ্যতামূলক ভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে কোনো সিন্ডিকেট রাজ না চলতে পারে।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মোদী বলেন, “বাংলায় আজ ভয়ের রাজত্ব চলছে। সাধারণ মানুষ কথা বলতে ভয় পান। কিন্তু মোদীর গ্যারান্টি এই পরিস্থিতি বদলে দেবে। আমরা ভয়মুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার সংকল্প নিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে, যার যোগ্য জবাব মানুষ ব্যালট বাক্সে দেবে।

এদিন পূর্বস্থলীর সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের কেন্দ্রে ছিল ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ এবং ‘তোলাবাজি’। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির বিচার চেয়ে এবং ১৫ বছরের হিসাব নেওয়ার কথা বলে মোদী আসলে রাজ্যের শাসকদলের ভিত নাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘গ্যারান্টি’ নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে বিজেপিকে কতটা সাহায্য করে।