প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলায় যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। গতকাল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ২৯১ টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে একপ্রকার ‘অল-আউট’ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে। কিন্তু রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, খেলা তো সবে শুরু! একদিকে যখন শাসক দল তাদের সব তাস টেবিলে সাজিয়ে দিয়েছে, তখন বিজেপি মাত্র ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বাকি আসনগুলোতে যে ‘সাসপেন্স’ বজায় রেখেছে, তাতেই ঘুম উড়েছে ঘাসফুল শিবিরের। বাকি প্রার্থী তালিকা কবে? জল্পনা তুঙ্গে।
বিজেপি সূত্রে খবর, বাকি আসনগুলোর জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক করছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় তথা বড় তালিকাটি সামনে আসবে। তবে এই দেরির পিছনে রয়েছে এক গভীর রণকৌশল। বিজেপি দেখতে চেয়েছিল, তৃণমূল কোথায় কাকে প্রার্থী করে এবং সেই অনুযায়ী ‘হেভিওয়েট’ ও ‘তুরুপের তাস’ সাজানোই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য। আর এর ফলেই বাড়তি চাপে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু কেন চাপে রয়েছে তৃণমূল?
প্রসঙ্গত, তৃণমূল প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের অন্দরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। টিকিট না পেয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ। বিজেপি ঠিক এই সুযোগেরই অপেক্ষায় আছে। তৃণমূলের হেভিওয়েট ‘বিক্ষুব্ধ’দের নিজেদের দিকে টেনে এনে টিকিট দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এবার বিজেপি অনেক সচেতনভাবেই প্রার্থী দিচ্ছে। যে আসনগুলোতে তৃণমূল দুর্বল বা যেখানে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে, সেখানে চমকপ্রদ নাম ঘোষণা করে শাসক দলকে কোণঠাসা করাই মোদী-শাহের লক্ষ্য। শোনা যাচ্ছে, বিজেপির বাকি তালিকায় এমন কিছু বড় নাম বা জননেতা থাকতে পারেন, যা এক ধাক্কায় ভোটের সমীকরণ বদলে দেবে।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, “তৃণমূল সব কার্ড খেলে ফেলেছে, এখন আমাদের কাউন্টার অ্যাটাকের পালা।” ১৪৪ জনের তালিকায় বিজেপি যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে, বাকি আসনে সেই তেজ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লি থেকে সবুজ সংকেত এলেই যে ধামাকা হতে চলেছে, তার জন্য এখন প্রহর গুনছে বাংলা। এখন প্রশ্ন একটাই— বিজেপির এই ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি কি তৃণমূলের ২৯১ জনের আত্মবিশ্বাসকে নাড়িয়ে দেবে? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।