প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার রাজনৈতিক বসন্তের আমেজ ছাপিয়ে এখন তপ্ত মরুঝড়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘিরে তৈরি হলো এক প্রবল বিতর্কের আবর্ত। শাসক দলের এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই তাতে ‘অপরাধের দীর্ঘ ছায়া’ দেখছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের প্রার্থী চয়নকে ‘কলঙ্কিত’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই তালিকা আসলে এক ‘অপরাধী গ্যালারি’, যেখানে শুদ্ধ রাজনীতির পরিবর্তে জেলখাটা বাহুবলীদেরই রাজতিলক পরানো হয়েছে।

বিরোধী দলনেতা আজ নজিরবিহীন শব্দবাণে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবার এমন এক ‘বৈচিত্র্যময়’ প্রার্থী তালিকা পেশ করেছে, যা স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলায় ইতিপূর্বে কোনো রাজনৈতিক দল করার ধৃষ্টতা দেখায়নি। এই তালিকায় এমন সব ব্যক্তিদের উজ্জ্বল উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যারা দুর্নীতির দায়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর কিংবা তারও বেশি সময় শ্রীঘরের অন্ধকারে দিন কাটিয়েছেন।আশ্চর্যের বিষয় হলো, সমাজের চোখে যারা জঘন্য অপরাধ ও নারী নির্যাতনের মত ঘটনায় অভিযুক্ত, তাদেরই নির্লজ্জভাবে টিকিট দিয়ে পবিত্র বিধানসভায় পাঠানোর সুনিপুণ চক্রান্ত করছে তৃণমূল।”

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, তৃণমূলের এই তালিকায় সাধারণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির লড়াকু কর্মীদের কোনো ঠাঁই নেই। তাঁর মতে, “যাঁরা তোলাবাজি, সিন্ডিকেট আর দুর্নীতির কলকাঠি নেড়ে দলের ভাঁড়ার পূর্ণ করেছেন, আজ টিকিট বিতরণে তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।” নিজের ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত শাণিত ভাষায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী চয়নের সঙ্গে তৃণমূলের এক আকাশ-পাতাল বিভেদ তুলে ধরেন। তিনি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দাবি করেন, “বিজেপি এবার তাদের প্রার্থী তালিকায় ৫০ শতাংশের বেশি সুযোগ দিয়েছে সেইসব সাধারণ কর্মীদের, যারা কোনো ক্ষমতার আস্ফালন ছাড়াই রোদ-জল-ঝড় উপেক্ষা করে দলের পতাকা বয়ে নিয়ে গিয়েছেন। লড়াইটা এবার হবে পবিত্রতা বনাম পঙ্কিলতার।”

শুভেন্দুর এই আক্রমণকে অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, তৃণমূল নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ‘উইনেবিলিটি’ বা পেশিশক্তির ওপর ভরসা রাখলেও, শুভেন্দু যেভাবে তাদের ‘ক্রিমিনাল রেকর্ড’ জনসমক্ষে আনছেন, তাতে সচেতন ও শিক্ষিত ভোটারদের মনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।‌ বিজেপি এবার ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’কে প্রধান অস্ত্র করতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর আজকের বক্তব্য আসলে তৃণমূলের নিচুতলার ক্ষুব্ধ কর্মীদের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন বার্তা, যেখানে যোগ্যতার চেয়ে অপরাধ মূলক অতীতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে মহিলা ও যুব ভোটারদের কাছে ‘অভিযুক্ত’ ব্যক্তিদের প্রার্থী করা তৃণমূলের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। বিজেপি এই ইস্যুটিকে সামাজিক হাতিয়ার করে ভোটারদের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করতে চাইছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তৃণমূলের এই তালিকায় থাকা ‘বিতর্কিত’ মুখগুলি আসলে বিজেপির হাতে এক বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বিরোধী দলনেতার আজকের মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনে ইস্যু কেবল উন্নয়ন নয়, বরং ‘ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা’ এবং ‘আইনি রেকর্ড’ হবে প্রচারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। পরিশেষে, শুভেন্দু অধিকারীর সাফ হুঁশিয়ারি— “বাংলার মানুষ আর ভয় দেখিয়ে ভোট লুটের রাজনীতি মেনে নেবে না। একদিকে দাগি আসামিদের সিন্ডিকেট, আর অন্যদিকে জনতার ভূমিপুত্ররা। ব্যালট বক্সেই এই কলঙ্কিত রাজনীতির বিসর্জন ঘটাবে বাংলার সচেতন জনতা।”‌