প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনম্যান্ডেট হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছে তৃণমূল কংগ্রেস? আজ, ২০ মে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বর সাক্ষী থাকল তেমনই এক চরম হাস্যকর ও নজিরবিহীন নাটকের। বিধানসভার ভেতরে ড. বি আর আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে হঠাৎ করেই বসে পড়লেন তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়করা। সদ্য ক্ষমতা হারানো একটি দলের বিধায়কদের এই আকস্মিক ‘ধরণা নাটক’ দেখে রাজনৈতিক মহলের একটাই প্রশ্ন—রাজ্যে আইনের শাসন ফিরতেই কি এত ভয় সাবেক শাসকদলের?

ভোটের পর থেকেই রাজ্যে বেআইনি দখলদারি মুক্ত করতে এবং হকারদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নতুন বিজেপি সরকার। আর সরকারের এই কঠোর প্রশাসনিক এবং নিয়মতান্ত্রিক সক্রিয়তা দেখেই যেন বুক কাঁপতে শুরু করেছে তৃণমূল শিবিরের। আজ বিধানসভায় বিক্ষোভরত বিধায়কদের হাতে “বুলডোজার সংস্কৃতি” এবং “সংবিধান রক্ষার” স্লোগান দিতে দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন যাঁরা রাজ্যে বিরোধী কণ্ঠরোধ করে স্বৈরাচারী শাসন চালিয়েছেন, আজ তাঁদের মুখেই সংবিধানের বাণী আসলে এক চরম দ্বিচারিতা ও পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন, এই বিক্ষোভ কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়, বরং কালীঘাটের ধমক খেয়ে পিঠ বাঁচাতে বাধ্য হয়েছেন বিধায়করা। গতকালই কালীঘাটে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নবনির্বাচিত বিধায়কদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছিল। সূত্রের খবর, নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিধানসভা এবং রাজপথে দলের ধারাবাহিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিধায়কদের চরম ভর্ৎসনা করেন শীর্ষ নেতারা। কুণাল ঘোষদের মতো নেতারা সাফ জানিয়ে দেন, এভাবে চুপ করে বসে থাকলে দল আইসিইউ-তে চলে যাবে। আর সেই বৈঠকের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আজ বিধানসভার ভেতরে এই নাটকীয় অবস্থান বিক্ষোভের অবতারণা করা হলো স্রেফ দিল্লির নেতাদের নিজেদের ‘অস্তিত্ব’ জানান দেওয়ার জন্য।

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আজ বিধানসভার ভেতরে এই বিক্ষোভ আসলে আগামীকাল, ২১ মে, কলকাতার বুকে বড়সড় গোলমাল পাকানোর একটি পরিকল্পিত মহড়া মাত্র। আগামীকাল হাওড়া, শিয়ালদহ এবং বালিগঞ্জের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে হকার উচ্ছেদের বিরোধিতার নাম করে সাধারণ মানুষের জনজীবন স্তব্ধ করার ডাক দিয়েছে তারা। আজকের এই বিধানসভার নাটকের মাধ্যমে তারা আসলে আগামীকালকের অশান্তি সৃষ্টির রাজনীতির জন্য জল মেপে রাখছে।

 

শাসনভার হারানোর পর যেখানে বিধানসভার ভেতরে রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে গঠনমূলক বিরোধিতার প্রয়োজন ছিল, সেখানে প্রথম দিন থেকেই এই ধরণের কান্নাকাটি ও বিক্ষোভের সস্তা রাজনীতি সাধারণ মানুষের মনে তীব্র বিরক্তির উদ্রেক করছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে আইনের শাসন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু হতেই তৃণমূলের এই “আন্দোলনের নাটক” আসলে নিজেদের কর্মীদের কোনোমতে চাঙ্গা রাখার একটা শেষ ও মরিয়া চেষ্টা। তবে বাংলার সচেতন মানুষ যে এই সস্তা প্রচারের রাজনীতি আর গিলছেন না, তা গত নির্বাচনী ফলাফলই প্রমাণ করে দিয়েছে।