প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে আইন শৃঙ্খলা বলে যে কিছু নেই, সেই দাবি বারবার করে এসেছে বিরোধীরা। এমনকি বিরোধী নেতাদের গলায় রাজ্যের বেশ কিছু তৃণমূল নেতাদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যার মধ্যে মাঝেমধ্যেই উঠে আসে শওকত মোল্লার মত বিধায়কের নাম। যিনি প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকলে স্বয়ং পুলিশ মন্ত্রী তার বিরুদ্ধে বোম বাঁধার মত মারাত্মক অভিযোগ তোলেন, সেই রকম মানুষ কোনো জায়গায় বিধায়ক থাকলে সেই এলাকার মানুষকে কি রকম যন্ত্রণায় থাকতে হয় এবং কিভাবে তাদের ওপর অত্যাচার চলে, তা তো বলাই বাহুল্য। এতদিন তেমনটাই দাবি করে এসেছে বিরোধীরা। কিন্তু এবার সেই শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে আর বিরোধী দলের কোনো নেতা নয়, একেবারে তৃণমূলের নেতা কাইজার আহমেদ বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন। এক্ষেত্রে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক তাকে খুন করতে সুপারি কিলার এনেছেন বলেই দাবি করলেন এই তৃণমূল নেতা।
ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের পক্ষ থেকে এতদিন লাগাতার অভিযোগ করা হয়েছে। এই মানুষটি কিভাবে সন্ত্রাস চালায়, কিভাবে বিরোধীদের চাপে রেখে গণতন্ত্রকে হত্যা করে, সেই রকম অনেক অভিযোগ উঠে এসেছিলো। কিন্তু এবার তৃণমূলের ঘর থেকেই এই শওকাত মোল্লার বিরুদ্ধে উঠে এলো মারাত্মক অভিযোগ। যেখানে ভাঙ্গরের তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, এই শওকত মোল্লা তাকে খুন করতে এবং শেষ করে দিতে সুপারি কিলার ভাড়া করে এনেছেন। আর একেবারে ভাঙ্গরের তৃণমূল পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধেই সেখানকার তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদের এই অভিযোগ ঘিরে রীতিমত উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। ইতিমধ্যেই শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এফআইআর করতে চেয়ে থানায় একটি মেইল করেছেন কাইজার আহমেদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। কিন্তু গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, তাও আবার বিধানসভা ভোটের আগে তা স্বপ্নেও কল্পনা করা যায়নি। আসলে এই শওকত মোল্লাদের মত নেতারাই তৃণমূলের এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্দিনে যারা তৃণমূল করতেন, তাদের ওপর ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। আর সেই কারণেই ভাঙ্গরের পুরোনো তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ একেবারে শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিধানসভা ভোটের আগে শোরগোল ফেলে দিলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।