প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআরকে আটকানোর জন্য সব রকম চেষ্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস করেই চলেছেন। প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে তারা বিভিন্ন রকম ভাবে আদালতের দরজায় গিয়ে চেষ্টা করছেন, যাতে এই এসআইআর আটকানো যায়। কিন্তু অতীতেও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এসআইআর আটকানোর কাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আর কোনৈভাবেই তা আটকাতে না পেরে এখন ধর্নায় বসে পড়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আগামীকাল আবার সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি যে মন্তব্য করেছেন, তাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল সরকারের ওপর যে প্রত্যেকেই বিরক্ত, সংবিধান থেকে শুরু করে আইন ব্যবস্থা, প্রত্যেকেই যে তৃণমূল সরকারের আচার-আচরণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা তুলে ধরলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

সকলে একটাই কথা বলছেন যে, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ তো নয়, পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও একাধিক রাজ্যে তো এসআইআর হচ্ছে। কিন্তু কোথাও থেকে তো এরকম কোনো বিশৃঙ্খলার খবর আসছে না। একমাত্র এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই এসআইআরকে আটকানোর জন্য সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও যখন লাভ হলো না, তখন তার আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝেমধ্যেই তারা শীর্ষ আদালতে গিয়ে বিচার ব্যবস্থা যখন তথ্যগত অসংগতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, তারপরেও তারা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচার ব্যবস্থাকেও বিব্রত করার একটা মরিয়া চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে বলেই অভিযোগ। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বাদেও তো তারা অন্যান্য বিষয়ে কাজ আছে। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টও যে এই রাজ্যের শাসকদলের বারবার করে শীর্ষ আদালতে পৌঁছে যাওয়া এবং এসআইআর নিয়ে অভিযোগ জানানোর ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত, তা প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট বলেই দাবি করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “একটু আগে সুপ্রিম কোর্টের কমেন্ট তো নিশ্চয়ই পেয়েছেন। বলছে, আমাদের তো আরও কাজ আছে। শুধু তো পশ্চিমবঙ্গ নয়। মাননীয় প্রধান বিচারপতির কমেন্ট নিশ্চয়ই দেখেছেন। সকলেই বিরক্ত। মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সরকার এবং তাঁর দলের আচার-আচরণে প্রত্যেকটা মানুষই বিরক্ত। তার অভিব্যক্তি আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মুখ থেকেও শুনতে পাওয়া গেল।”