প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলীয় প্রতীক (Symbol) দখলের লড়াই এবার চরম রহস্যময় ও নাটকীয় মোড় নিল। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির) প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরদিনই এবার পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা করে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করল ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ (বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির)। সোমবার বিকেলে কলকাতার ‘তৃণমূল ভবন’ থেকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, “আমরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস এবং আমাদের প্রার্থীরা দলীয় জোড়াফুল প্রতীকেই মনোনয়ন জমা দেবেন”।

তৃণমূলের আদি বনাম নব্য শিবিরের এই সরাসরি যুদ্ধ মূলত আগামী ৬ অক্টোবরের দুটি হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা উপনির্বাচন আসনকে কেন্দ্র করে। নন্দীগ্রাম (Nandigram):ঋতব্রত তৃণমূল প্রার্থী: মহম্মদ এতেশামুল হক (Mohammad Eteshamul Haque)। কালীঘাট তৃণমূল প্রার্থী: সঞ্চিতা প্রধান (দে)। রেজিনগর (Rejinagar): ঋতব্রত তৃণমূল প্রার্থী: সফিউজ্জামান শেখ (Safiuzzaman Sheikh)। কালীঘাট তৃণমূল প্রার্থী: রবিউল আলম চৌধুরী। রাজনৈতিক মহলের মতে, মনোনয়নের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা আসলে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির এক চরম গোপন চাল।

বিধানসভায় তৃণমূলের সিংহভাগ বিধায়কের সমর্থন পকেটে নিয়ে ঋতব্রত ইতিমধ্যেই নিজেকে ‘আসল বিরোধী দলনেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই আইনি ঢালকে সামনে রেখেই তাঁরা নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে জোড়াফুল প্রতীকটি দাবি করছেন। ঋতব্রত স্পষ্ট বলেছেন, “আমরা দেওয়ালে জোড়াফুল চিহ্নই আঁকব, ওটা আমাদেরই প্রতীক”। এই ঘোষণার ফলে আইনি লড়াই এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দুই পক্ষই একই প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিলে তা স্ক্রুটিনির সময় বড়সড় আইনি জটে পড়বে।

এই নির্বাচন কেবল একটি সাধারণ উপনির্বাচন নয়, এটি আসলে ‘তৃণমূল’ নাম এবং প্রতীকের আইনি উত্তরাধিকার প্রমাণের মরণপণ লড়াই। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দুই পক্ষকে অতিরিক্ত নথিপত্র জমা দিতে বলেছে।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি বুধবার বিকেল ৩টের মধ্যে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি (NCP) মামলার নজির মেনে জোড়াফুল প্রতীকটি সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ বা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই সম্পূর্ণ নতুন বা স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে ময়দানে নামতে হবে। পাল্টা চালে, প্রবীণ নেতা ও আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের পদ খারিজের জন্য মরিয়া আবেদন জানিয়েছেন। জবাবে ঋতব্রত কটাক্ষ করে বলেছেন, “আর কটা দিন অপেক্ষা করুন, টের পাবেন কার বিধায়ক পদ থাকে আর কার যায়।” বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে দলীয় প্রতীক ও অস্তিত্ব রক্ষার এমন নজিরবিহীন এবং থ্রিলারে ভরপুর গৃহযুদ্ধ এর আগে কখনও দেখেনি রাজ্য রাজনীতি।