প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কার দখলে থাকবে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক নাম, দলীয় দফতর, কোটি কোটি টাকার তহবিল এবং ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক? আজ শনিবার দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) দরবারে তার চূড়ান্ত এবং সবচেয়ে বড় ভাগ্যনির্ধারণ হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৈরি হওয়া নজিরবিহীন অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার শেষলগ্নে এসে পৌঁছাল। দিল্লির দ্বারকায় আজ মাত্র ১ ঘণ্টার ব্যবধানে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের মুখোমুখি হচ্ছে তৃণমূলের বিবদমান দুই পক্ষ—‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের হাইপ্রোফাইল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনের এই তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুই শিবিরেরই ৫ জন করে প্রতিনিধির সাক্ষাতের আবেদন মঞ্জুর করেছে কমিশন। বৈঠকে যোগ দিতে গতকালই দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন দুই পক্ষের শীর্ষ নেতারা।

সকাল ১১ টায় নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরের ৫ জন প্রতিনিধির সঙ্গে প্রথম রুদ্ধদ্বার বৈঠক। দুপুর ১২টায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় মেগা বৈঠক। ঋতব্রত শিবিরের দাবি: বিধানসভায় তৃণমূলের নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে সিংহভাগ বিধায়ক বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে হাত মিলিয়েছেন। লোকতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং সংখ্যার বিচারে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের দিকে থাকায়, তারাই ‘আসল তৃণমূল’ এবং প্রতীকের আইনি দাবিদার তাদেরই হওয়া উচিত। কালীঘাট শিবিরের পাল্টা যুক্তি: এই দল ও প্রতীকের জন্মদাত্রী খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৭ সাল পর্যন্ত সাংগঠনিক কমিটির মেয়াদ রয়েছে, তাই মাঝপথে মূল নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে দল বা প্রতীকের ওপর অন্য কারও দাবি সম্পূর্ণ বেআইনি ও দলবিরোধী।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। দুই শিবিরই এই উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে। কিন্তু একই দল ও প্রতীক নিয়ে দুই প্রার্থীর লড়াই করা নিয়মের বাইরে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে শিবসেনা বা এনসিপি (NCP)-র অন্তর্দ্বন্দ্বের নজির মাথায় রাখলে, নির্বাচন কমিশন হয়তো উপনির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বার্থে সাময়িকভাবে তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি ফ্রিজ (স্থগিত) করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই নতুন নাম ও নতুন অন্তর্বর্তী প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নামতে হতে পারে। দিল্লির দ্বারকার এই মেগা বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হতে চলেছে বাংলার রাজনীতির আগামী দিনের ভাগ্যরেখা।