প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আগামী সোমবার, ৪ মে ২০২৬, কার দখলে যাবে বাংলার মসনদ— তা নিয়ে যখন গোটা রাজ্য উত্তেজনায় ফুটছে, ঠিক তার আগেই আজ কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ কাণ্ডারি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

ভোট শেষ হলেও লড়াই এখনও জারি। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামপুকুর ও বেলেঘাটার মত কেন্দ্রে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থীরা বিক্ষোভে বসেন। যদিও নির্বাচন কমিশন এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে যে, নিয়ম মেনেই পোস্টাল ব্যালট পৃথক করার কাজ চলছিল এবং ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মমতা ও অভিষেক আজ সমস্ত স্ট্রং রুমের পরিস্থিতির ওপর সশরীরে নজরদারি এবং জেলাওয়াড়ি রিপোর্ট নিয়ে কাটাছেঁড়া করেন।

সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে সোমবারের গণনার জন্য বিশেষ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। আগামীকাল, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। আজকের বৈঠকে সেই ক্লাসেরই চূড়ান্ত ‘গাইডলাইন’ ঠিক হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের ভেতরে যদি কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে, তবে দলের প্রতিনিধিরা তৎক্ষণাৎ কী আইনি ব্যবস্থা নেবেন, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন যে, কেউ যদি ইভিএম চুরির চেষ্টা করে তবে তৃণমূল কর্মীরা মরণপণ সংগ্রাম করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন তৃণমূল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক ‘অগ্নিপরীক্ষা’। একাধিক বুথে ফের ভোটের (Repoll) নির্দেশ এবং স্ট্রং রুম নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ। বিরোধী পক্ষ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী যখন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি— তৃণমূল এবারও ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে।

রাজ্যের প্রতিটি বুথে যখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা এবং সিসিটিভি-র কড়া নজরদারি, তখন কালীঘাটের এই বৈঠক স্পষ্ট করে দিচ্ছে— ফল যাই হোক না কেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে কোমর বেঁধে নেমেছে ঘাসফুল শিবির।