প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
কিছুদিন আগেই এই রাজ্যের বুকে ঘটে গিয়েছে একটি বড় ঘটনা। যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি যখন আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি সেখানে গিয়ে তিনি বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে আসেন। যা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বলেই দাবি করতে শুরু করেন সকলে। পরবর্তীতে গোটা বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গতকাল মামলার শুনানি থাকলেও তারা হলফনামা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছুটা সময় চেয়ে নেয়। যার ফলে অনেকেই বলছিলেন যে, ইডি কি আদৌ এই মামলার ব্যাপারে সিরিয়াস? তবে সত্যিই যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিরিয়াস এবং তারা যে বুঝে শুনেই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চলেছেন, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
সকলের মধ্যে বর্তমানে একটাই প্রশ্ন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে এসেছিলেন, তাতে তার বিরুদ্ধে কি কোনো শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? গতকাল শুনানির দিন আবার পিছিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। অনেকেই বলছেন যে, ইডি নাকি নিজেই এই মামলা নিয়ে সিরিয়াস নয়। তার ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তাহলে কি তাদের কাছে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ নেই? তবে সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে আজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হলফনামায় যে সমস্ত বিস্ফোরক দাবি করলো, তাতে রীতিমত চাপে পড়ে যাওয়ার মুখে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির পক্ষ থেকে আইপ্যাড কান্ডে হলফনামা দেওয়া হয়েছে। আর সেখানে বিস্ফোরক দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যেখানে তারা উল্লেখ করেছে যে, নথি নেওয়ার আগে কোনো তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি নেননি মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী যে সমস্ত নথিগুলো নিয়ে গিয়েছেন, সেগুলি যে শুধু তৃণমূল কংগ্রেসেরই ছিলো, নাকি সেখানে কয়লা পাচার মামলার নথি ছিলো, সেই সম্পর্কেও তারা নিশ্চিত নয়। শুধু তাই নয়, যখন তল্লাশি চলছিল, তখন সেখানে সংখ্যাগত ক্ষমতা এবং শক্তি প্রদর্শন করে প্রবেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও বলে সেই হলফনামায় দাবি করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামায় যে সমস্ত দাবি করা হয়েছিল এই আইপ্যাক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, তাকে সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দিয়ে পাল্টা নিজেদের যুক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে ফেলে দিলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।