প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ফাল্গুনের শেষেই উত্তরবঙ্গে চড়ছে পারদ, আর সেই গরমের তেজ যেন এসে লাগল শিলিগুড়ির নির্বাচনী ময়দানে। সোমবার সকালে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার চলাকালীন এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। প্রচারে বেরিয়ে একদল মহিলার অভাব-অভিযোগ আর প্রশ্নের বাণে শেষ পর্যন্ত মেজাজ হারিয়ে ফেললেন পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। ঠিক কী ঘটেছিল এদিন?
সোমবার সকালে দলীয় কর্মীদের নিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে জনসংযোগ সারছিলেন গৌতম দেব। পরনে ছিল আকাশী শার্ট, কালো ট্রাউজার্স আর চোখে রোদচশমা। প্রাতভ্রমণে বের হওয়া একদল মহিলা মেয়রের মুখোমুখি হয়ে কথা বলতে চান। তাঁরা এলাকার দীর্ঘদিনের অনুন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।
মহিলাদের প্রধান অভিযোগ ছিল পানীয় জলের তীব্র সংকট এবং রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে। তাঁদের দাবি, দিনের পর দিন তাঁরা কষ্ট সহ্য করছেন, অথচ প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো সুরাহা মেলেনি। প্রচারের মাঝপথে এমন অতর্কিত প্রশ্নে মেজাজ হারান মেয়র।
বিক্ষোভের মুখে পড়ে গৌতম দেব বলেন, “রাজনৈতিক চশমা খুলে দেখুন।” তিনি আরও সাফ জানান যে, ভোটাররা চাইলে যাকেও খুশি ভোট দিতে পারেন। অভিযোগকারীরা যখন তাঁর কাছে বিগত ৫ বছরের কাজের খতিয়ান চান, তখন কিছুটা বিরক্ত হয়েই মেয়র বলেন, “ভোট মিটে গেলে আপনাদের গাড়ি ভাড়া করে আমাদের করা উন্নয়ন দেখিয়ে আনব।” মেয়রের এই ‘গাড়ি ভাড়া’ করে উন্নয়ন দেখানোর মন্তব্যটি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির শঙ্কর ঘোষ মেয়রের এই আচরণকে কটাক্ষ করেছেন। তার বক্তব্য, বয়সের ভারে মেয়র এখন খেই হারিয়ে ফেলছেন এবং তাঁর এখন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। ১ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে হারের ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন তিনি।
নির্বাচনের মুখে খোদ মেয়রের এমন মেজাজ হারানো সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে মেয়র অনুগামীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের প্ররোচনাতেই ওই মহিলারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন।