প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পরিবর্তন কাকে বলে, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে অপরাধীরা। বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা হতেই দুর্নীতিবাজ ও বাহুবলীদের ডানা ছাঁটার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে অত্যন্ত কড়া হাতে। এতদিন যারা ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে বুক ফুলিয়ে দাদাগিরি করত, আজ তারা পুলিশের গাড়িতে মাথা নিছু করে বসে থাকছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আর আইনের জোরালো ধাক্কায় এবার শ্রীঘরে ঠাঁই হলো ব্যারাকপুর-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা শুকুর আলী পুরকাইতের। কী ভাবছিল এরা? ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে সারাজীবন সাধারণ মানুষের রক্ত চোষা যাবে? রহড়া থানার পুলিশ এই প্রভাবশালী নেতার ডানা ছেঁটে বুঝিয়ে দিল যে আইন সবার জন্য সমান।

কথায় বলে, পাপের ঘড়া একদিন না একদিন পূর্ণ হয়। শুকুর আলীর ক্ষেত্রেও সেটাই হলো। এলাকায় সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং তোলাবাজি করার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠছিল এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এর আগে তার বিরুদ্ধে হোটেল ভাঙচুর থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের একাধিক মারাত্মক অভিযোগ জমা পড়েছিল পুলিশের খাতায়। এলাকার মানুষ এতদিন যাদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেত না, সেই শুকুর আলী ও তার ভাইদের বাহিনীর অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ভাইদের দাপটে এলাকায় যে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা ভাঙতে রহড়া থানার পুলিশ এখন বদ্ধপরিকর। নতুন জমানায় পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই কেল্লাফতে! সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অ্যাকশন নিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল এই বাহুবলীর দম্ভ।

গ্রেফতার করার পর শুকুর আলীকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তার চেনা এলাকায় ঘোরানো হয়। এরপর রহড়া থানার পুলিশ এই তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিশেষ তল্লাশি অভিযানে যায়। আর তাতেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় তদন্তকারীদের! নেতার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে থরে থরে সাজানো লক্ষাধিক নগদ টাকা। প্রশ্ন উঠছে, একজন পঞ্চায়েত স্তরের নেতার ঘরে এই বিপুল পরিমাণ ক্যাশ টাকা কোথা থেকে এলো? এটা কি সাধারণ মানুষের থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা? নাকি কোনো বড় সিন্ডিকেটের নেপথ্য কাহিনী রয়েছে এর পেছনে? পুলিশ এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস সন্ধানে জোরদার জেরা শুরু করেছে।ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহলে এখন এই নিয়ে তীব্র আলোড়ন।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিবিরের স্পষ্ট দাবি, এতদিন ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে যারা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাত, তাদের প্রত্যেকের হিসাব এভাবেই হবে। এই গ্রেফতারির পর এলাকার সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরলেও, পুলিশ এই চক্রের গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত জারি রেখেছে।