প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ভারতের সংস্কৃতির রাজধানী কলকাতার বুকে। পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনার আবহে, চার দিনের ভারত সফরে আজ সকালেই কলকাতায় পা রাখলেন আমেরিকার অত্যন্ত প্রভাবশালী বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই মেগা-সফরের সূচনা হিসেবে দিল্লির বদলে কলকাতার মাটিকে বেছে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আজ সকাল ঠিক ৭টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে মার্কিন বিদেশসচিবের বিশেষ বিমান। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তিনি সস্ত্রীক সরাসরি চলে যান সেন্ট্রাল কলকাতার মাদার হাউসে। মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতরে গিয়ে মাদার টেরিজার সমাধিতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও প্রার্থনা করেন তিনি। এরপর কলকাতার ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পরিদর্শনেরও সূচি রয়েছে তাঁর।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই প্রথম আমেরিকার কোনও বিদেশসচিব পা রাখলেন কলকাতায়। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ভারতের পূর্ব প্রান্তের এই শহরকে মার্কিন কূটনীতিতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিলেন রুবিও। আজই কলকাতা সফর শেষ করে রাজধানী দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন বিদেশসচিব।পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকাকেই সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বিশেষ এনার্জি পার্টনারশিপ নিয়ে এই সফরে বড়সড় চুক্তি হতে পারে বলে সূত্রের খবর।সফরের শেষ দিনে ২৬ মে দিল্লিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে হাই-লেভেল ‘কোয়াড’ (Quad) বৈঠকে যোগ দেবেন মার্কো রুবিও।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতের নেতৃত্বাধীন এই জোট বিশ্ব রাজনীতিতে বেজিং বা অন্য মহাশক্তিদের জন্য এক বড় বার্তা হতে চলেছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মোদী সরকারের আমলে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফর তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। কলকাতার মাটি থেকে শুরু হওয়া এই সফর আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে, তা বলাই বাহুল্য।