প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই আবহে আজ, শনিবার কলকাতায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি ‘চার্জশিট’ বা অভিযোগপত্র প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গত ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে একগুচ্ছ রাজনৈতিক অভিযোগ তোলা হয়েছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াকু ভূমিকাকে দরাজ শংসাপত্র দিয়েছেন শাহ।
চার্জশিট প্রকাশের সময় অমিত শাহ বিশেষভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম উল্লেখ করে বলেন, “বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ সফর করে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেই শুভেন্দুর লড়াইকে এভাবে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া স্পষ্ট করে দিল যে, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ হিসেবে দিল্লি নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীর ওপরই ভরসা রাখছে।
বিজেপির প্রকাশিত এই চার্জশিটে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশের সমস্যা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার অভাব সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাহের মতে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সফরের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে এই ‘বেহাল দশা’র চিত্রটি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। তবে এই সমস্ত অভিযোগই বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান থেকে করা হয়েছে।
অমিত শাহ এ দিন স্পষ্ট করে দেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচন হবে ‘ভয়ের রাজনীতির’ বিরুদ্ধে ‘ভরসার রাজনীতির’ লড়াই। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের শাসনামলে রাজ্যে যে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা রুখতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। বিজেপির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন, যা এই চার্জশিটে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির রণকৌশল নির্ধারণ করে দিল। শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে রেখে এবং তৃণমূলের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে বিজেপি যে মেরুকরণের লড়াই তীব্র করতে চায়, তা এ দিনের কর্মসূচি থেকে পরিষ্কার। শাসক দল তৃণমূল অবশ্য বিজেপির এই চার্জশিটকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে পাল্টা দাবি করেছে। তবে শাহের মুখে শুভেন্দুর প্রশংসা বঙ্গ বিজেপির অন্দরে তাঁর ক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।