প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার তখত কি এবার সত্যিই নড়বড়ে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ২৬ এর রণকৌশল কি তবে ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর? গতকাল ভবানীপুরের মাটি থেকে শাহ যে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, আজ হরিরামপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা আক্রমণে সেই আশঙ্কাই যেন আরও প্রকট হয়ে ধরা দিল রাজনৈতিক মহলে। শাহের ‘১৫ দিন’ (মতান্তরে ২৫ দিন) বাংলায় থাকার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর বেলাগাম আক্রমণকে বিজেপি নেতৃত্ব এখন ‘পরাজয়ের পূর্বলক্ষণ’ হিসেবেই দেখছেন।

গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, এই নির্বাচন কেবল আসন জেতার নয়, বরং বাংলার বুক থেকে ‘তোষণ’ ও ‘দুর্নীতির’ রাজনীতি উপড়ে ফেলার লড়াই। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ভোটের অন্তিম লগ্নে তিনি ১৫ থেকে ২৫ দিন টানা বাংলায় থাকবেন এবং প্রতিটি বুথে বিজেপির জয় নিশ্চিত করবেন। ভবানীপুর, যা মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত, সেখানে শাহের এই দাপট যে তৃণমূলের অন্দরমহলে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে, তা আজ হরিরামপুরের সভায় মমতার কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে।

আজ হরিরামপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে যে ধরণের শব্দ প্রয়োগ করেছেন, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মাত্রা ছাড়িয়েছে বলে দাবি করছে গেরুয়া শিবির। শাহের অবস্থানকে ‘ভয় দেখানো’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, “৩৬৫ দিন থাকো, তোমার মুখ যত দেখবে তত ভোট কাটবে।” শুধু তাই নয়, সরাসরি ‘অত্যাচার’ ও ‘দাঙ্গার’ চিহ্ন দেখার মতো ব্যক্তিগত আক্রমণও শানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের খতিয়ান দেওয়ার বদলে যখন কোনো জননেত্রী প্রতিপক্ষের মুখাবয়ব নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন, তখন বুঝতে হবে পায়ের তলার মাটি বেশ আলগা হয়ে এসেছে।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শাহ যদি আসতেই পারেন তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এত উত্তেজিত? আসলে ভোটে পরাজয়ের আতঙ্কে তৃণমূলের মধ্যে এক ধরণের ‘বহিরাগত’ জুজু তৈরি করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এখন দেখছেন, কে বেশি আপন। যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপ্রবেশ ঠেকানোর কথা বলছেন, নাকি সেই মুখ্যমন্ত্রী যিনি শাহের উপস্থিতিকে দাঙ্গার সাথে তুলনা করে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছেন? শাহের রণকৌশলে স্পষ্ট যে, বিজেপি এবার প্রতিটি সিটে তৃণমূলকে ইঞ্চি ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। ভবানীপুর থেকে দেওয়া শাহের বার্তা— “এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টাটা-বাই বাই বলার সময় এসে গেছে”— যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনের গভীরে গিয়ে বিঁধেছে। আর সেই জ্বালা মেটাতেই কি হরিরামপুরে গিয়ে এমন আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করলেন তৃণমূল নেত্রী?

শাহের বাংলা সফর ও মমতার পাল্টা আক্রমণ এখন বঙ্গ রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। শাহ পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তিনি বাংলায় থাকছেন এবং রাজ্যবাসীকে ‘ভয়হীন’ হয়ে ভোট দেওয়ার সাহস জোগাচ্ছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মরিয়া মেজাজ দেখে রাজনৈতিক কারবারিরা বলছেন— খেলা এবার সত্যিই জমে উঠেছে। শাহের উপস্থিতি যদি তৃণমূলের ভোট কাটত, তবে মমতা হয়তো তাঁকে স্বাগতই জানাতেন। কিন্তু তাঁর এই উষ্মা প্রমাণ করছে, শাহের পরিকল্পনা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে প্রস্তুত। এখন দেখার, শাহের এই দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘অ্যাটাক’ থিওরি শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে লাগে।