প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। সে সাংবাদিক হতে পারে, সে বিরোধী নেতা হতে পারে, কিংবা সাধারণ মানুষ হতে পারে। শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই কিংবা তাদের অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বললেই বাড়িতে চলে আসবে পুলিশের নোটিশ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রবণতা এই রাজ্যের বুকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। অন্তত বিরোধীরা তেমনটাই অভিযোগ করেন। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। যে কোনো মুহূর্তে ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে। আর তার আগে ফের কি প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে দিলো এই রাজ্যের পুলিশ? যেখানে বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকে পুলিশের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে এই খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নোটিশ?

২৬ এর নির্বাচনের আগে এই রাজ্যে শাসক দল যে অত্যন্ত ভয়ে রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিরোধীরা যেভাবে হিন্দু ভোটকে একত্রিত করছেন, যেভাবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেকটি জায়গায় সভা সমিতি থেকে রাজ্যের মানুষকে একত্রিত হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকেও এবার পরিবর্তনের আওয়াজ উঠছে। আর তৃণমূলের কানে সেটা যত বেশি প্রবেশ করছে, ততই তারা পুলিশকে দিয়ে বিদ্রোহী নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের, যারাই শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। আর এই পরিস্থিতিতে গত জানুয়ারি মাসে পুলিশের বিরুদ্ধে একটি সভা থেকে টাকা তোলার বিষয়টি তুলে ধরেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। আর সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এবার তাকে নোটিশ পাঠালো পুলিশ।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, গত জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখ একটি প্রকাশ্য সভা থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ করেন এই বিজেপি বিধায়ক। আর সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্তের জন্য তাকে নোটিশ পাঠিয়েছে জেলা পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি বিধায়ককে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এই নোটিশ ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে জেলা রাজনীতি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের এই নোটিশের পর কি করেন বিজেপি বিধায়ক, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।