প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- জগদীপ ধনকর রাজ্যপাল থাকার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকার বুঝেছিলেন, কত ধানে কত চাল। রাজ্য সরকারকে সেই সময় জগদীপ ধনকর বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো অন্যায় কাজ বরদাস্ত করা হবে না। পরবর্তীতে সিভি আনন্দ বোস রাজ্যপাল হওয়ার সময় তাকে যেভাবেই হোক, কোনো একটা ভাবে ম্যানেজ করে নিয়ে এই রাজ্য সরকার নিজেদের মত করে পথ চলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বর্তমান যিনি রাজ্যপাল হিসেবে আসছেন, সেই আর এন রবিকে আর যাই হোক, হাতে খড়ি দিয়ে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ম্যানেজ করতে পারবেন না। অন্তত তেমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে আর এন রবির এই রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে আসাটাকে অত্যন্ত আতঙ্ক হিসেবেই নিচ্ছেন, তা তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি নাকি বিজেপির প্যারেড করা লোক, সম্প্রতি এই মন্তব্য করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আর এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে পা রেখেছেন আর এন রবি। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শপথ নেবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পর থেকে পদত্যাগ করেন সিভি আনন্দ বোস। আর তারপর থেকেই তাকে রাজনৈতিক কারণে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ধর্না মঞ্চ থেকে তিনি যে ব্যক্তি রাজ্যপাল হিসেবে আসছেন, তার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে তাই বলতে শুরু করেন। বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি বিজেপির কথায় কাজ করেছেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই সমস্ত বক্তব্য যে আতঙ্কের নামান্তর, তা বুঝতে বাকি নেই বিরোধীদের। তাই বিরোধীরা দাবি করছেন, এবার যিনি রাজ্যপাল হয়ে আসছেন, তিনি এই রাজ্যের সমস্ত অন্যায় কাজ বন্ধ করে দেবেন। কড়া ভাষায় সবক শেখাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকারকে। আর সেই আতঙ্কেই মুখ্যমন্ত্রী সেই রাজ্যপালের মত সাংবিধানিক পদকেও এখন অপমান করতে শুরু করেছেন।
সূত্রের খবর, গতকালই রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন আরএন রবি। ইতিমধ্যেই অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। আজ আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। যেখানে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন আর এন রবিকে। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর আরএন রবির জার্নি কেমন হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।