প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বাজতে না বাজতেই বড়সড় ধামাকা দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এতদিন যারা পর্দার আড়ালে থেকে অথবা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এলাকায় দাপট দেখাতেন, এবার তাঁদের দিন ঘনিয়ে এল। কমিশনের নতুন এক কঠোর নির্দেশে কার্যত রাতের ঘুম উড়তে চলেছে রাজ্যের একাধিক ‘প্রভাবশালী’র। ভোটমুখী রাজ্যগুলোতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার সরাসরি ‘অ্যাকশন মোডে’ নামছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ দপ্তরে ইদানীং একটি শব্দবন্ধ ঘোরাফেরা করছে— ‘VIP রাউডি’ বা ‘ট্রাবল মঙ্গার’ (Trouble Monger)। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এরা হলেন সেই সব ব্যক্তি যাঁরা সমাজে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তাঁদের মূল কাজ হলো ভোটের সময় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শন করা এবং ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সময় দেখা যায় এই ধরণের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা থাকলেও তাঁরা দাপটের সাথে এলাকায় ঘুরে বেড়ান। এবার তাঁদের ডানা ছাঁটতেই কমিশনের এই মরণ কামড়।
এই নির্দেশের সবথেকে চমকপ্রদ এবং সাহসী অংশ হলো—ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রত্যাহার। অনেক সময় দেখা যায়, রাজনৈতিক মদতে বা প্রশাসনের আনুকূল্যে দাগি অপরাধীরাও ব্যক্তিগত বা সরকারি নিরাপত্তা (Security) নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এমন কোনো ‘প্রভাবশালী’ দুষ্কৃতীর গায়ে যদি সরকারি নিরাপত্তার তকমা থাকে, তবে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। কোনো গানম্যান বা দেহরক্ষী নিয়ে ভোটারদের মনে ভয় দেখানো এবার আর সহজ হবে না। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে প্রতিটি জেলার অপরাধীদের তালিকা যাচাই করা হবে এবং যারা প্রভাব খাটিয়ে নিরাপত্তা ভোগ করছে, তাদের সেই তকমা কেড়ে নেওয়া হবে।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বা যাঁরা এলাকা অশান্ত করতে পারেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রকম প্রশাসনিক গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না। কমিশন সাফ জানিয়েছে, যদি দেখা যায় কোনো পুলিশ আধিকারিক এই ধরণের ‘প্রভাবশালী’দের আড়াল করছেন, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার কোনো ‘দাদার’ সুপারিশে ছাড় পাওয়ার রাস্তা কার্যত বন্ধ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কমিশনের এই পদক্ষেপ আদতে বিরোধী দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগেরই এক প্রকার স্বীকৃতি। বিরোধীরা বরাবরই দাবি করে আসছিল যে, একশ্রেণীর ‘প্রভাবশালী’ সমাজবিরোধী নির্বাচনের সময় এলাকা দখল করে রাখে। কমিশনের এই নয়া নির্দেশিকার ফলে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি এই ‘VIP রাউডি’দের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভোটের ফলাফল অনেক বেশি স্বচ্ছ হবে।
এখন দেখার, কমিশনের এই নির্দেশের পর জেলা স্তরে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নবান্ন থেকে শুরু করে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছে ইতিম্যধ্যেই এই নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের সাম্রাজ্যে কতটা ধস নামে এবং কাদের কাদের নাম কমিশনের ‘রেড জোনে’ বা লাল কালিতে দাগানো হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এই একটি সিদ্ধান্তে যে বাংলার রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।