প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
একসময় বিহার, উত্তরপ্রদেশে ভোট হলেই সন্ত্রাস হতো। তবে সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আজ সেখানে ভোট উৎসবের সঙ্গে পালন হয়। কিন্তু যে পশ্চিমবঙ্গ সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে পরিচিত, সেই পশ্চিমবঙ্গে এখন ভোট মানেই রক্ত, ভোট মানেই হিংসার ঘটনা ঘটে। তাই পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, বিহার, উত্তরপ্রদেশ শান্ত হয়ে গেলেও এখন পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে কমিশনকে। যেখানে নির্বাচন হলেই যে বাংলায় সন্ত্রাস হয়, তা উপলব্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণে ভোটের ঘোষণা হওয়ার আগেই রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিভিন্ন মহলে এই বিষয় নিয়ে চর্চা হচ্ছে। অনেকেই এই বিষয়টিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই রাজ্যে আসার মধ্যে দিয়েই একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এবার কমিশন বাংলাকে আলাদা চোখে দেখতে শুরু করেছে। বাংলার জন্য কড়া ট্রিটমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা ভোটের আগে থেকেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই যে সন্ত্রাস এবং তার জন্যেই যে ভোটের আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে, সেই কথা উল্লেখ করে এটা বাংলার জন্য অত্যন্ত লজ্জার বলেই মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন যে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবারের নির্বাচনে ব্যাপক অশান্তি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এটাও সকলে আশঙ্কা করছেন। আর যেখানে বাংলায় সামান্য সমবায় ভোটেও হিংসা হয়, সেখানে এত বড় নির্বাচনের এবার যে সন্ত্রাস হতে পারে, সেই সম্ভাবনা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাই ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই রাজ্যে চলে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর সেই বিষয় নিয়েই প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
এদিন এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এটা তো বাংলার লজ্জা, বাঙালির লজ্জা। পশ্চিমবঙ্গ বা বাঙালিরা একদিন সারা ভারতবর্ষকে পথ দেখাতো। তারা আজ এখানে সমস্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সাংবিধানিক পরিকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখানে নির্বাচন করতে গেলে আগে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ তাদের ভোট সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি। এর থেকে লজ্জাজনক পরিস্থিতি আর কিছু হতে পারে না।”