প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ইস্যু এবার ‘ফর্ম-৬’ (ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন)। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, হাজার হাজার ফর্ম জমা দিয়ে রাজ্যের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস বদলানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু মঙ্গলবার কমিশনের পক্ষ থেকে যে বয়ান এলো, তাতে তৃণমূলের সেই অভিযোগের সুর কতটা ধোপে টিকবে, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের হয়ে এদিন সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট করে দিলেন, গোটা প্রক্রিয়ার আইনি ও প্রশাসনিক দিকটি। কমিশনের ব্যাখ্যায় উঠে এলো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, নোয়াপাড়া, ব্যারাকপুর, এগরা, জোড়াসাঁকো বা শ্যামপুকুরের মতো এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। এর প্রেক্ষিতে মনোজ আগরওয়াল সাফ জানান, “আমাদের দপ্তর একটি সরকারি কার্যালয়। এখানে যদি কেউ কোনো নথি বা আবেদনপত্র জমা দিতে আসেন, তবে তা গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য। আমরা কোনো আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দিতে পারি না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ফর্ম জমা পড়লেই তা গৃহীত হয়ে গেল এমনটা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ স্ক্রুটিনি বা যাচাই প্রক্রিয়া।
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে নিয়মটি আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর বছরে চারবার (জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই ও অক্টোবর) ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করা যায়। তবে ফর্ম-৬ বছরের যেকোনো সময়ই জমা নেওয়া সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ সময়সীমা কাজ করে। নির্বাচনের মনোনয়নের শেষ দিনের অন্তত সাত দিন আগে পর্যন্ত যে সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি হবে, শুধুমাত্র সেই ভোটাররাই এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। আগরওয়াল স্পষ্ট করে দেন, “আজ যদি কোনো আবেদনের নিষ্পত্তি করাও হয়, তবুও সেই ব্যক্তি আসন্ন নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতে ‘তড়িঘড়ি বহিরাগতদের ভোটার করার’ যে তত্ত্ব তৃণমূল খাড়া করেছিল, তা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, হাজার হাজার ফর্ম যদি জমা পড়ে থাকে, তবে অন্তত সেই সংখ্যক মানুষকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। তিনি সিইও-র কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবিও জানিয়েছিলেন। এর উত্তরে কমিশন জানিয়েছে, সিইও নিজে সরাসরি কোনো ভোটারের নাম যুক্ত বা বাদ দিতে পারেন না। এই দায়িত্ব থাকে ইলেকট্রোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং ডিস্ট্রিক্ট ইলেকট্রোরাল অফিসার (DEO)-র ওপর। নোয়াপাড়া বা ব্যারাকপুরের মতো জায়গায় যে অভিযোগ উঠেছে, তা ডিইও খতিয়ে দেখবেন। কোনো নাম যদি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাদ যায়, তবে ১৫ দিনের মধ্যে ডিইও-র কাছে আপিল করার সুযোগও রয়েছে।
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী বিজেপি ফর্ম-৬ ব্যবহার করে ভোটব্যাঙ্ক প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, কমিশনের ব্যাখ্যা বলছে, তারা স্রেফ নিয়ম মেনে আবেদন গ্রহণ করছে এবং এর বিচার হবে আইনি প্রক্রিয়ায়। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তৃণমূলের এই ‘ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ’-এর অভিযোগ শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারের কৌশল? নাকি সত্যিই এর গভীরে কোনো বড় ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে? উত্তর দেবে সময় এবং কমিশনের চূড়ান্ত স্ক্রুটিনি রিপোর্ট।