প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোট বড় বালাই! তাই তপ্ত দুপুরেও আরামবাগের মায়াপুর-১ পঞ্চায়েতের হাটবসন্তপুর এলাকায় এখন বিনোদনের মেলা। সৌজন্যে—তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ। জনসংযোগ করতে গিয়ে তিনি যা ঘটিয়েছেন, তা দেখে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রার্থী কি ভোট চাইতে এসেছেন, না কি কোনো সিনেমার শুটিং করতে? প্রচারের ময়দানে প্রার্থীর এই ‘অলরাউন্ডার’ পারফরম্যান্স এখন আরামবাগের অলিতে-গলিতে হাসির খোরাক।
ঘটনার সূত্রপাত হাটবসন্তপুর গ্রামে। প্রচারের মাঝপথে প্রার্থী দেখলেন এক গ্রামবাসী উঠোনে ঘুঁটে শুকাতে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ হলে হয়তো পাশ কাটিয়েই চলে যেতেন, কিন্তু তিনি যে জনসেবক! মুহূর্তের মধ্যে প্রার্থী বসে পড়লেন ঘুঁটে উল্টাতে। ক্যামেরা সচল হতেই শুরু হয়ে গেল ‘ঘুঁটে-বিলাস’। গ্রামবাসীদের চোখ তো চড়কগাছ! যে হাত দিয়ে এলাকার উন্নয়নের ফিতে কাটার কথা, সেই হাতে ঘুঁটে উল্টানো দেখে অনেকেই আড়ালে হাসছেন।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের কটাক্ষ, “সারা বছর দেখা মেলে না, কিন্তু ভোট এলেই তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে বাড়ির কাজের ধুম পড়ে যায়। কেউ বাসন মাজেন, কেউ ধান কাটেন, আর মিতা দেবী তো এক ধাপ এগিয়ে ঘুঁটে উল্টে ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করছেন! আসলে উন্নয়ন দিয়ে তো আর ভোট পাওয়া যাবে না, তাই এখন গোবরই তৃণমূলের শেষ ভরসা।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা বলছেন, “রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দেওয়া দলটা এখন গরিব মানুষকে ঘুঁটে ব্যবহারেরই পরোক্ষ বার্তা দিচ্ছে বোধহয়!”
ঘুঁটে পর্ব মিটিয়ে প্রার্থী ঢুকলেন পরের পাড়ায়। সেখানে এক অশীতিপর বৃদ্ধাকে দেখে প্রার্থী যেন আবেগে গদগদ হয়ে পড়লেন। বৃদ্ধা খুশিতে হাত নেড়ে নাচতে শুরু করলে, মিতা বাগও এক ঝটকায় তাঁকে সটান কোলে তুলে নিয়ে নাচতে শুরু করেন। দেখে মনে হচ্ছিল, বুঝি কোনো রিয়ালিটি শোর অডিশন চলছে! এই ‘আবেগঘন’ দৃশ্য দেখে পদ্ম শিবিরের খোঁচা, “বাংলার বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা যখন বার্ধক্য ভাতার জন্য চটি ক্ষয় করছেন, তখন কোলে তুলে নাচার এই নাটক আসলে মানুষের ক্ষোভ ঢাকার চেষ্টা। ভোটের পর এই ঠাকুমার খবর কি প্রার্থী রাখবেন?”
স্থানীয় চায়ের দোকানে এক প্রবীণ ভোটার মুচকি হেসে বললেন, “ভোটের আগে এই আদর-সোহাগ তো চেনা ছবি। আজ ঠাকুমাকে কোলে তুলছেন, কাল হয়তো আমাদের বাড়ির বাজারও করে দেবেন। কিন্তু ভোট মিটে গেলে এনাদের টিকিটিও দেখা যাবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই ‘ঘরের মেয়ে’ সাজার চেষ্টা আসলে ডুবন্ত নৌকো বাঁচানোর শেষ কসরত। আরামবাগের বিজেপি শিবিরের দাবি, মানুষ এখন অনেক সচেতন। সস্তার নাটক আর কাজের অভাবের মধ্যে তফাৎ তাঁরা বোঝেন। উন্নয়নের খতিয়ান নেই বলেই এখন ঘুঁটে উল্টে আর ঠাকুমা কোলে নিয়ে কসরত করতে হচ্ছে। আরামবাগের মানুষ এবার আর ‘ঘুঁটে-বিলাসে’ ভুলছেন না; তাঁরা তৈরি হচ্ছেন ইভিএমে এর যোগ্য জবাব দিতে। সব মিলিয়ে মিতা বাগের এই ‘নাটকীয়’ প্রচার এখন আরামবাগের রাজনীতির হট টপিক। ভোটারদের রায় কী হবে তা সময় বলবে, তবে প্রার্থীর এই নাচ আর ঘুঁটে-উল্টানো যে রাজনৈতিক মহলে ভরপুর বিনোদন জুগিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।