প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। প্রচারের ময়দানে যখন তৃণমূল-বিজেপি যুযুধান পক্ষ, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বিরাট খবর। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার আরও কড়া অবস্থান নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর এই তদন্তের মূলে রয়েছেন খোদ রাজ্যের দুই হেভিওয়েট বিদায়ী মন্ত্রী এবং এবারের তৃণমূল প্রার্থী— সুজিত বসু ও রথীন ঘোষ। দু’জনকেই আগামীকাল সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানা চলছে। এর আগেও তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইডি। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দ্বিতীয় নোটিশ পাওয়ার পর হাজিরা না দিয়ে উল্টে ইডি দফতরে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সুজিতবাবু। ভোটের মুখে প্রচারের ব্যস্ততাকে কারণ দেখিয়ে তিনি এখনই হাজিরা দিতে নারাজ ছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীরা তাঁর এই যুক্তিতে আমল দিতে নারাজ। সূত্রের খবর, চিঠির উত্তর আসার পরেই পাল্টা কড়া পদক্ষেপ নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য তাঁকে নোটিশ পাঠাল ইডি। আগামীকালই তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকেও নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে শাসক শিবিরে। এর আগে জানুয়ারি মাসে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। এরপর গত বৃহস্পতিবার তাঁকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির জাল অনেক গভীরে এবং সেখানে প্রভাবশালী যোগের একাধিক সূত্র মিলেছে। রথীন ঘোষকেও আগামীকালই ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হতে হবে বলে খবর।

আগামীকাল কি হাজিরা দেবেন সুজিত ও রথীন? নাকি ফের আইনি ঢাল ব্যবহার করবেন? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সিজিও কমপ্লেক্সের দিকে। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে এই দুই হেভিওয়েটের নাম জড়ানোয় বিজেপি নেতৃত্ব আক্রমণাত্মক মেজাজে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “চুরি করলে সিআইডির হাত থেকে বাঁচা গেলেও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাত থেকে রেহাই নেই। দুর্নীতির টাকা উদ্ধার হবেই।”ভোটের প্রচারের মাঝেই দুই প্রার্থীর এই ইডি-বিভ্রাট সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ দুই প্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন তদন্তকারী সংস্থার হাতে। এখন দেখার, আগামীকাল সিজিও কমপ্লেক্স থেকে নতুন কোনো ‘বোমা’ ফাটে কি না!