প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার এক নির্দেশিকায় রাজ্যের মোট ১৪২ জন পুলিশ আধিকারিককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন রাজ্য পুলিশের ইন্সপেক্টর ও ওসি-রা, তেমনই রয়েছেন কলকাতা পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানার আধিকারিকরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কমিশনের এই বদলি তালিকায় সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলো নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবাসন এলাকা কালীঘাট এবং তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর থানার ওসি-দের একযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ও চেতলা থানার পুলিশি নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কলকাতার মোট ৩১ জন পুলিশ আধিকারিক এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ভবানীপুর থানার নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) অভিজ্ঞ অফিসার সৌমিত্র বসুকে। দীর্ঘ সময় ধরে একই এলাকায় কর্মরত থাকা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু শহর কলকাতা নয়, জেলাগুলোতেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতেও পুলিশি কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নন্দীগ্রামের মত হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রের আইসি-কেও বদলি করা হয়েছে। কমিশনের যুক্তি অত্যন্ত স্পষ্ট—ভোট প্রক্রিয়ায় যাতে কোনোভাবেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এই আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হচ্ছিল। কমিশন সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

পুলিশের পাশাপাশি একই দিনে রাজ্যের ১৮টি জেলার ৮৩ জন বিডিও (BDO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারকেও (ARO) বদলি করেছে কমিশন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিডিও-দের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখেই সম্ভবত নির্বাচনের আগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চাইছে কমিশন। প্রশাসনের নিচুতলার এই ব্যাপক পরিবর্তন কার্যত নজিরবিহীন।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে বিতর্কিত অফিসারদের সরানো জরুরি ছিল।” অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই গণ-বদলিকে ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’ বলে দাবি করলেও, আইনিভাবে কমিশনের এই নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসন বাধ্য।

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কি ভোটের ময়দানে অশান্তি কমাতে সাহায্য করবে? নাকি দিল্লি বনাম নবান্নের সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে এই রদবদল নিয়ে চাঞ্চল্য তুঙ্গে।