প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর নির্বাচনী রণদামামা বাজার পরেই শহর কলকাতায় ফের ইডির বড়সড় অভিযান। আনন্দপুর ও আলিপুরের হাই-প্রোফাইল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) উদ্ধার করল লক্ষ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না। তবে এই উদ্ধার হওয়া নগদ টাকার চেয়েও ইডি আধিকারিকদের ভাবিয়ে তুলেছে অভিযুক্তদের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু ‘ডিজিটাল ডিভাইস’ ও গোপন নথি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তল্লাশির মূলে রয়েছে সম্প্রতি ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের একটি মোবাইল ফোন। সেই ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই সূত্রপাত। অভিযোগ, জমি জালিয়াতি এবং আর্থিক প্রতারণায় অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’র ঘনিষ্ঠ এই জয় কামদার। তাকে জেরা করেই আনন্দপুরের বিলাসবহুল আবাসন ‘আরবানা’-র বাসিন্দা কল্যাণ শুক্লা এবং আলিপুরের ব্যবসায়ী সঞ্জয় কানোরিয়ার নাম উঠে আসে।
এদিন দিনভর তল্লাশি শেষে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে এসেছে, প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হার্ড ক্যাশ। বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না।বেশ কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং ডায়েরি যাতে কোটি কোটি টাকার রহস্যময় লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে বলে তদন্ত কারীদের দাবি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ইডি সূত্রের দাবি উদ্ধার হওয়া নথিতে বেশ কয়েকজন ‘প্রভাবশালী ব্যক্তির’ (Politically Exposed Persons) নাম ও তাঁদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত মিলেছে। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যদি এই তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড় হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ইডি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান মূলত ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA)-এর আওতায় চালানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের আয়ের উৎস এবং এই টাকার সাথে কোনো বড় কোনো সিন্ডিকেটের যোগাযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। শহরের প্রাণকেন্দ্রে সাতসকালে ইডির এই ‘অ্যাকশন’ সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন ত্রাসের সৃষ্টি করেছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পালা। এখন দেখার, ইডির এই ‘সিজার লিস্ট’ থেকে আগামী দিনে আর কার কার নাম প্রকাশ্যে আসে।