প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের মুখে অবাধ ও স্বচ্ছ পরিবেশ বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। নদিয়া জেলার হাঁসখালির বিডিও (BDO) সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে মঙ্গলবারই সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শিবিরে এক ভোটকর্মীর ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় বিডিও-র ‘চরম গাফিলতি’ ও ‘কর্তব্যে অবহেলার’ প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।

গত ২৭ মার্চ রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ স্কুলে ভোটকর্মীদের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেই প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রজেক্টরের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সংবলিত সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। উপস্থিত ভোটকর্মীদের একাংশ এর তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং একে নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধির (MCC) সরাসরি লঙ্ঘন বলে দাবি তোলেন।

অভিযোগ, আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের প্রতিবাদ করায় সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক প্রাথমিক শিক্ষক তথা ভোটকর্মীকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়। বিডিও-র উপস্থিতিতেই তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই শিক্ষককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলার প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসতেই নদিয়া জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর কমিশন জানায়, বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য তাঁর দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। একজন দায়িত্বশীল আধিকারিক হিসেবে প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশৃঙ্খলা ও নিগ্রহের ঘটনা রুখতে না পারা তাঁর ‘কর্তব্যে অবহেলা’ হিসেবেই গণ্য করেছে কমিশন।

কমিশনের নির্দেশে বিডিও-কে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Inquiry) শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বেই বিডিও অফিসের দুই কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিডিও-র মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকের এই সাসপেনশন রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে এক কড়া বার্তা দিল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।